ক্লাস চলাকালীন ছাত্ররা বাইরে কেন? প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন শিক্ষিকা! সাংবাদিককে চপ্পল দিয়ে মার, ভাইরাল ভিডিও!

ক্লাসের সময় ছাত্রছাত্রীরা কেন বাইরে খেলাধুলো করছে—এই প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন এক শিক্ষিকা। শুধু তাই নয়, তিনি চপ্পল হাতে সাংবাদিকের ওপর তেড়ে গিয়ে তাঁকে মারধরও করেন! মধ্যপ্রদেশের দামো জেলার হিনোতি আজম গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় শিক্ষিকার এমন আচরণে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ঘটনাটি রেকর্ড করেছেন স্বয়ং ওই সাংবাদিক। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের শিশুরা ক্লাসে না গিয়ে বিদ্যালয় চত্বরের মধ্যেই খেলাধুলো করছে। সাংবাদিক সেই দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা ওই শিক্ষিকার দিকে এগিয়ে যান।

সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “ম্যাডাম, আপনার ছাত্রছাত্রীরা বাইরে ঘুরছে কেন?”

প্রশ্ন শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই শিক্ষিকা। ঝাঁঝালো গলায় তিনি বলেন, “আপনার সঙ্গে কি ফালতু কথা বলছি আমি?” এর পরেই পা থেকে চপ্পল খুলে তেড়ে যান এবং বলতে থাকেন, “চপ্পল দিয়ে মারব কিন্তু!” কথা শেষ না হতেই শিক্ষিকা সাংবাদিককে মারতে শুরু করেন।

সাংবাদিক পিছিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বারবার বলতে থাকেন, “গায়ে হাত দেবেন না ম্যাডাম।” কিন্তু তাতেও থামেননি শিক্ষিকা।

উপস্থিত গ্রামবাসীরা, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন, এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান এবং শিক্ষিকাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। বচসার মধ্যেই শিক্ষিকা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “এই লোকটি অভদ্রতা করছে!” জবাবে সাংবাদিক বলেন, “কী অভদ্রতা করলাম? গায়ে হাত দেবেন না, সব রেকর্ড হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “একটা থাপ্পড়ও যদি মারেন, আমিও কিন্তু পালটা মারব।”

ভিডিওটি ‘এক্স’ (টুইটার) মাধ্যমে শেয়ার হতেই নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং শিক্ষিকার এহেন আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

নেটিজেনদের একজন মন্তব্য করেন, “ইনি শিক্ষিকা? যদি তাই হন, তা হলে ওই গ্রামের ভবিষ্যৎ শুধু অনিশ্চিত নয়, অন্ধকারাচ্ছন্ন।” আর এক জন লেখেন, “এক জন মহিলা হয়ে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করছেন, অথচ ইনিই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বে রয়েছেন। আমাদের পরের প্রজন্ম কেন আরও খারাপ হচ্ছে, তা নিয়ে আর আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।”

ঘটনার পর ওই সাংবাদিক স্থানীয় মহিলা এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা প্রায়শই ক্লাস নেন না এবং পড়ুয়াদের বাইরে খেলতে ছেড়ে দেন। সাংবাদিকের প্রশ্ন করাটা অনুচিত ছিল কি না, এই প্রশ্নের জবাবে গ্রামবাসীরা সাফ জানান, সাংবাদিক কোনো ভুল করেননি। এক জন সাংবাদিক হিসাবে প্রশ্ন করার অধিকার তাঁর রয়েছে। শিক্ষিকার উচিত ছিল শান্ত ভাবে উত্তর দেওয়া, হিংসার আশ্রয় নেওয়া নয়।