‘কাক্কোথিক্কাবিলের’ পুনরাবৃত্তি! অলৌকিকভাবে অপহরণের হাত থেকে বেঁচেছিলেন এই বিখ্যাত মালয়ালম তারকা

মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ছবি ‘কাক্কোথিক্কাবিলের অপ্পুপ্পান থাডিকাল’। অভিনেত্রী রেবতীর শক্তিশালী অভিনয় এবং একটি অপহৃত শিশুর নির্মম জীবনসংগ্রামের গল্প আজও দর্শকদের নাড়া দেয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এই সিনেমার গল্পের সঙ্গে এক অদ্ভুত সাদৃশ্য রয়েছে মালয়ালম সঙ্গীত জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকা রিমি টমির শৈশবের এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার।

রিমি টমি, যিনি নিজের কর্মজীবনে শুধু কণ্ঠশিল্পী নন, টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবেও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, বছরখানেক আগে নিজের শো ‘পাড়াম নাকুম পাড়াম’-এর একটি এপিসোডে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন।

খেলার ছলে উধাও হলেন রিমি
কেরালার কোট্টায়াম জেলার পালা-র বাসিন্দা রিমি টমি ছিলেন পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ছোটবেলাতেই তার সঙ্গীতের প্রতিভাকে পরিচিত মহলে পৌঁছে দেন পরিচালক নাদিরশাহ। রিমির বাবা সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায় তার শৈশবের কিছুটা সময় কেটেছিল উটিতে।

সেই উটিতেই একদিন ঘটে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। বাড়ির উঠোনে খেলা করছিলেন ছোট্ট রিমি। সেই সময় একজন ভিখারি বাড়ির চত্বরে প্রবেশ করে। শৈশবের সরলতায় ভিখারিটি যখন তাকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে?”, তখন বিপদ বুঝতে না পেরে রিমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান! পরিবার প্রথমদিকে তার অনুপস্থিতি খেয়াল করেনি।

বস্তাবন্দী হওয়ার মুহূর্তেই অলৌকিক রক্ষা
কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের এক পরিচিত বন্ধু। তিনি দেখেন, ভিখারিটি একটি শেডের ভেতরে শিশু রিমিকে বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে অপহরণের চেষ্টা করছে!

বিপদের ভয়াবহতা বুঝতে পেরেই বন্ধুটি দ্রুত এগিয়ে এসে হস্তক্ষেপ করেন এবং রিমিকে উদ্ধার করে সুরক্ষিতভাবে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। ভাগ্যের ফেরে, সিনেমার গল্পের নায়িকার মতো রিমিকে জীবন-পরিবর্তনকারী এক মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হয়নি। তিনি রক্ষা পান অপহরণের হাত থেকে।

‘চিংগামাসম’ গেয়ে তারকা খ্যাতি
সেই ভয়ঙ্কর অতীতকে পিছনে ফেলে রিমি টমি পরে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে একজন তারকা প্লেব্যাক সিঙ্গার ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে নিজের স্থান গড়ে তোলেন। অভিনেতা দিলীপ ও কাব্য মাধবনের ছবি ‘মীষা মাধবন’-এর জনপ্রিয় গান ‘চিংগামাসম ভন্নু চেরনাল’ গেয়ে তিনি রাতারাতি পরিচিতি পান। তার প্রাণবন্ত মঞ্চ পরিবেশনার জন্য তিনি দ্রুতই বিখ্যাত হন এবং ২০০০ ও ২০১০-এর দশকে অসংখ্য হিট গান উপহার দেন। নিজের ক্যারিয়ারে তিনি শাহরুখ খানের মতো সুপারস্টারদের সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন।

রিমি টমির এই জীবন কেবল তার প্রতিভা এবং অধ্যাবসায়ের গল্প নয়, বরং এটি সেই অলৌকিক মুহূর্তের গল্প, যা এক নিদারুণ বিপর্যয়ের হাত থেকে তাকে বাঁচিয়েছিল।

পাঠক হিসেবে আপনার কী মনে হয়, এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও রিমি টমি যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা কি তার অদম্য সাহসের প্রমাণ?