ইতিহাস ভাঙল! ৭৯ বছরে প্রথমবার PMO-এর ঠিকানা পরিবর্তন, দীপাবলির পরই ‘সেবা তীর্থ’-এ পা রাখছেন মোদী

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার পরিবর্তিত হতে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানা। দক্ষিণ ব্লকের ঐতিহাসিক ভবন ছেড়ে এবার পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানা গিয়েছে, দীপাবলির পর বা উৎসবের অব্যবহিত পরেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নতুন অফিসে কাজ শুরু করবেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর দফতরটি গড়ে উঠেছে দিল্লির এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ-এর অন্তর্গত ‘সেবা তীর্থ–১’ ভবনে। দেশের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রশাসনিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা, সেন্ট্রাল ভিস্তা রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-এর অংশ হিসেবে এই আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে।
ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের ইতি, নয়া ভারতের সূচনা
দীর্ঘ দশক ধরে দক্ষিণ ব্লক এবং নর্থ ব্লকই ছিল ভারতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতীক। স্বাধীনতার পর থেকে এখানেই নির্ধারিত হয়েছে দেশের নীতি, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু এবার সেই ঐতিহ্যবাহী দুটি ভবনকেই রূপ দেওয়া হবে এক নতুন রূপে— ‘যুগ–যুগিন ভারত সংগ্রহালয়’, যেখানে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে আধুনিক মিউজিয়ামের কাঠামোয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বারবার বলেছেন, ঔপনিবেশিক আমলের পুরনো ভবনগুলিতে সংকীর্ণ জায়গা, আলো-বাতাসের ঘাটতি এবং প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলি সীমাবদ্ধ পরিকাঠামোয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন সেন্ট্রাল ভিস্তা কমপ্লেক্স সেই সমস্ত সীমাবদ্ধতা দূর করবে।
‘সেবা তীর্থ’ থেকে চলবে প্রশাসন
নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ-এ কেবল প্রধানমন্ত্রীর দফতর নয়, আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ‘সেবা তীর্থ-২’ এবং ‘সেবা তীর্থ-৩’-এ স্থানান্তরিত হবে ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দফতর (NSA Office)।
সম্প্রতি ক্যাবিনেট সচিব টি. ভি. সোমনাথন এই নতুন কমপ্লেক্সে সেনাপ্রধান, নৌসেনাপ্রধান, বায়ুসেনাপ্রধান ও চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— নতুন কমপ্লেক্স ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ হলো কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট (CCS)। এই নতুন ভবনগুলিতে ধাপে ধাপে স্থানান্তরিত হবে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মন্ত্রক ও বিভাগগুলি। সম্প্রতি উদ্বোধিত ‘কর্তব্য ভবন’-এ ইতিমধ্যেই একাধিক মন্ত্রক কাজ শুরু করেছে। আরও তিনটি CCS ভবন শিগগিরই চালু হবে।
সরকারের লক্ষ্য হলো, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প শেষ করা, যার অন্তর্ভুক্ত থাকবে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনও। এই আধুনিক কমপ্লেক্সের সব প্রশাসনিক ভবনগুলিকে সংযুক্ত করা হবে ‘অটোমেটেড পিপল মুভার’ ব্যবস্থার মাধ্যমে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনবে।
৭৮ বছরের পুরনো দক্ষিণ ব্লককে পেছনে ফেলে এই স্থানান্তর এক গভীর প্রতীকবাহী পদক্ষেপ— ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো পা রাখছে নতুন যুগে। ‘সেবা তীর্থ’-এর নতুন স্থাপত্য হয়ে উঠবে আধুনিক রাষ্ট্রচেতনার প্রতীক।