‘দল লড়বে, আমি নয়’! তেজস্বীর বিরুদ্ধে লড়ার জল্পনা উড়িয়ে বিহার ভোটে পিকে-র মাস্টারস্ট্রোক, কী বললেন সাক্ষাৎকারে?

লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধির আমেঠিতে হারের প্রসঙ্গ টেনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) যাদব পরিবারের স্ট্রংহোল্ড রাঘোপুরে গিয়ে লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবের (Tejashwi Yadav) হারের ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। এরপর জল্পনা শুরু হয় যে আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিজেই তেজস্বীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কিন্তু, মঙ্গলবার জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই জানা যায়, রাঘোপুর থেকে লড়ছেন না পিকে। এবার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন।

পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “না, আমি ভোটে লড়ব না। দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে… আমি দলের হয়ে এখন যে কাজ করছি, তাই করব। দলের বৃহত্তর স্বার্থে সংগঠনের কাজই দেখব আমি।”

আসলে এর আগে প্রশান্ত কিশোর নিজেই বলেছিলেন, তিনি যদি নির্বাচনে লড়েন তবে তাঁর জন্মস্থান কারগাহার থেকে লড়বেন। তবে মঙ্গলবার ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, রাঘোপুর কেন্দ্র থেকে পিকে-র দল চঞ্চল সিং-কে প্রার্থী করেছে এবং পিকের জন্মস্থান কারগাহার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভোজপুরি গায়ক রীতেশ পাণ্ডে।

পিকে-র দাবি, তাঁর নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তটি দলের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি। ২৪৩ বিধানসভা আসনের বিহারে এখনও পর্যন্ত ১১৬টি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। প্রার্থী তালিকায় চিকিৎসক, গণিতবিদ, গায়ক, সমাজবিদ সহ বহু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে। পিকে দাবি করেছেন, জন সুরাজ পার্টি যদি ১৫০-র কম আসন পায়, সেটাকেই তারা হার বলে মনে করবে।

তিনি বলেন, “এখন যদি এই মানুষগুলোকে মানুষ ভোট না দেন, তাহলে তার দায় প্রশান্ত কিশোরের নয়। এর দায় বিহারের মানুষের হবে।”
প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি নেতা প্রদীপ ভান্ডারি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্টে খোঁচা দিয়ে বলেন, “প্রশান্ত কিশোর জানেন যে বিহারে তার দলের নির্বাচনী প্রভাব খুবই নগণ্য! প্রশান্ত কিশোর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন না, কারণ তিনি জানেন যে তিনি যদি তা করেন তবে তিনি জমানত হারাবেন! জন সুরাজ, আরজেডি, কংগ্রেস সকলেই বিহারের পরিস্থিতি জানেন: বিহারের মানুষ এনডিএ-র সাথে আছেন।”