পাহাড়ে মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ৯৫০ কোটির ক্ষতির রিপোর্ট হাতে, ভোট-মুখে কি বিরাট রদবদল?

প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরই মঙ্গলবার পাহাড় সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মিরিকে না গেলেও, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সুখিয়াপোখরিতে পৌঁছে ত্রাণ তুলে দেবেন দুর্গতদের হাতে। একইসঙ্গে, বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারের এক সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র দেবেন তিনি, যা নিঃসন্দেহে এক মানবিক উদ্যোগ।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। সূত্রের খবর, এদিনের সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে পাহাড়ের ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে দেবে জিটিএ। জিটিএ চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আনুমানিক ৯৫০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পেশ করবেন।

আগামীতে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে, যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে SIR (State Internal Review)-এর মধ্যে দিয়েই। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, SIR মিটলে তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও কালিম্পং অনীত থাপার দলের দখলে, তবুও দার্জিলিং এবং কার্শিয়াং এখনও গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী যখনই পাহাড়ে এসেছেন, তখনই একাধিক রাজনৈতিক বৈঠক করেছেন। যার ফলস্বরূপ মাঝেমধ্যেই বদলে যায় পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ। এই বিপর্যয়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত পাহাড়বাসীর পাশে থেকে তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করছেন, যা ভোটের আগে কিছুটা হলেও দলের পথ মসৃণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামীকাল, বুধবারও তিনি পাহাড়েই থাকবেন। এরপর বৃহস্পতিবার আরও একটি রিভিউ মিটিং সেরে তিনি ফিরবেন সমতলে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটি দিকেই—এদিন নেত্রী পাহাড়ের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কোনও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন কিনা।

এদিকে, উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের পর রাজ্য সরকার একটি ত্রাণ তহবিল গড়ছে। জানা গিয়েছে, এই তহবিলের অর্থ শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ নয়, রাজ্যের যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। শীঘ্রই এই তহবিলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে। যেকোনো ব্যক্তি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সাহায্য করতে পারবেন।