ক্ষুদিরামের ‘খুদে’ জীবনের স্মৃতি! জানেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর দিদি অপরূপা রায়ের বাড়ি কোথায়?

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় নাম—বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। তাঁর আত্মবলিদান যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে আছে ঘাটালের দাসপুরের এক বাড়িতে। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর দিদি অপরূপা রায়ের সেই বাড়িটি আজও নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

ঘাটালের দাসপুরে অবস্থিত এই রায় বাড়ির দেওয়াল জুড়ে রয়েছে শুধুই ইতিহাসের গন্ধ। ক্ষুদিরামের দিদি অপরূপা রায় এবং তাঁর স্বামী অমৃতলাল রায় এই বাড়িতেই বসবাস করতেন। জানা যায়, বিপ্লবী ক্ষুদিরামের বেড়ে ওঠা এই বাড়িতেই। স্বাধীনতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার পরও ক্ষুদিরাম মাঝরাতে গোপনে এই বাড়িতে এসে দিদির সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার ভোরে বেরিয়ে চলে যেতেন। তাঁর সেই সমস্ত কাহিনী শুনলে আজও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

ক্ষুদিরামের জীবনে তাঁর দিদি অপরূপা দেবী এবং জামাইবাবু অমৃতলাল রায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অমৃতলাল রায় ক্ষুদিরামকে বিপ্লবী জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে উৎসাহিত করেছিলেন এবং তাঁকে তমলুকের হ্যামিল্টন হাই স্কুলে ভর্তি করে দেন। পরে ক্ষুদিরাম মেদিনীপুরে এসে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। এই রায় পরিবার ক্ষুদিরামকে স্নেহ ও সমর্থন জুগিয়েছিল, যা তাঁর বিপ্লবী জীবনে প্রেরণা জোগায়।

ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মৌবনী গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিন কন্যার পর তাঁর বাবা-মায়ের চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁর আগের দুই পুত্র অকালে মারা যাওয়ায়, আরেক পুত্রের মৃত্যুর আশঙ্কায় তৎকালীন সমাজের নিয়ম মেনে তাঁর বড় দিদির কাছে তাঁকে তিন মুঠো খুদের (চালের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। খুদের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলেই শিশুটির নাম পরবর্তীকালে ক্ষুদিরাম রাখা হয়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে এবং এক বছর পর পিতাকে হারানোর পর তাঁর বড় দিদি অপরূপা তাঁকে দাসপুর থানার অন্তর্গত নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মেদিনীপুরে তাঁর বিপ্লবী জীবনের অভিষেক ঘটে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠা একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে বিপ্লবী রাজনৈতিক দল যুগান্তরে যোগ দেওয়ার পর একের পর এক বোমা হামলার দায়ে তাঁকে আটক করা হয়। ১৯০৮ সালের ৩০ এপ্রিল মুজাফফরপুরে ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা ছুঁড়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন তিনি, যা আলিপুর বোমা মামলা নামে পরিচিত হয়। রায় শোনার পরেও হাসিমুখে দেশের জন্য প্রাণ দেন এই বীর বিপ্লবী।

ঘাটালের এই বাড়িটি আজও বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতির সঙ্গে জড়িত এক চিরস্মরণীয় স্থান।