ত্রিফলা নিরাপত্তা বলয়! নৈহাটির বড়মার জন্য বসছে ৮০টির বেশি CCTV, ভোগ বিতরণে খোলা হবে ৪টি কাউন্টার

আর মাত্র কয়েক দিন বাকি কালীপুজোর (Kali Puja 2025)। সামনের সপ্তাহেই অমাবস্যার রাতে অনুষ্ঠিত হবে নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী একুশ হাত বড়মা কালীর পুজো। প্রতিবছরের মতো এবারও লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই কারণে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ভোগ বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়েই তৎপর স্থানীয় প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কালীপুজো ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হলেও মূল পুজো হবে ২০ অক্টোবর অমাবস্যার রাতে, ঠিক রাত ১২টায়। এরপর রাত আড়াইটের সময় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ অঞ্জলি, যেখানে উপস্থিত ভক্তরা অংশ নিতে পারবেন।
ভক্তদের কথা মাথায় রেখে এবারও বিশাল ভোগের আয়োজন করা হয়েছে। ভোগের জন্য ২টি এবং প্রসাদ-সন্দেশ দেওয়ার জন্য আরও ২টি কাউন্টার খোলা থাকবে। পুজো গ্রহণের জন্য ১৭ অক্টোবর থেকে ৩টি কাউন্টার খোলা হলেও, মূল কালীপুজোর দিন (২০ অক্টোবর) ৪টি কাউন্টার চালু থাকবে। ভিড় সামলাতে মন্দির কমিটি ৩০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন করছে।
বড়মা কালীপুজো সমিতির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এবার ৩০০-র বেশি স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন মণ্ডপসহ আশপাশের এলাকায়। ৮০টিরও বেশি সিসি ক্যামেরা ভক্তদের গতিবিধির উপর নজর রাখবে।” এছাড়াও গঙ্গার ঘাট, মন্দির প্রাঙ্গণ ও নৈহাটি স্টেশন চত্বরে একটি করে এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে।
অন্যদিকে, সোমবার নৈহাটি রেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শনে যান বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা, অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়।
পুলিশ কমিশনার জানান, স্টেশনে ‘ওয়ানওয়ে সার্কুলেশন সিস্টেম’-এর মাধ্যমে যাত্রীদের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রেলযাত্রীরা সাবওয়ে দিয়ে বেরোবেন এবং ট্রেন ধরার জন্য দক্ষিণদিকের ফুটব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। কালীপুজোর দিনগুলিতে রেল, ফায়ার, ইলেকট্রিক সহ সব দপ্তর নিয়ে একটি যৌথ কন্ট্রোল রুম গঠন করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালানোর জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, নৈহাটি রেল স্টেশন সংলগ্ন অরবিন্দ রোডে চলছে একুশ হাত বড়মার প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। বিশাল আকৃতির এই প্রতিমা দেখতে এখনই এলাকায় ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।