Zoho-র ‘নো-ফান্ডিং’ মডেল! ডট-কম ক্র্যাশ সামলে কীভাবে ১০ কোটি ইউজারের মাইলফলক ছুঁলো এই ভারতীয় কোম্পানি?

আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে, যখন ভারতে প্রযুক্তির জোয়ার শুরু হচ্ছিল, তখন নিউ জার্সি (আমেরিকা) থেকে একটি বীজ বপন করা হয়েছিল, যা বর্তমানে জোহো কর্পোরেশন (Zoho Corporation) নামে পরিচিত। শ্রীধর বেম্বু এবং টনি থমাস কর্তৃক ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি একটি বিরল নজির সৃষ্টি করেছে: কোনো বাহ্যিক বিনিয়োগ বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC) ফান্ডিং ছাড়াই তারা নিজেদের সাম্রাজ্য তৈরি করেছে। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সঞ্চয় এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জোরে তাঁরা ‘অ্যাডভেন্টনেট’ (পরে যা জোহো হয়) প্রতিষ্ঠা করেন।

কোম্পানিটির প্রথম অফিস ছিল চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে মাত্র ১০×১০ ফুটের একটি ছোট ঘর। সেই সময় মাত্র ১৫ জন কর্মী নিয়ে নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের কাজ শুরু হয়। যখন শ্রীধর বেম্বু আমেরিকায় কোয়ালকম্পনিতে কর্মরত ছিলেন, তখন তাঁর ভাই কুমার এবং শেখর ভারতে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

১৯৯৭ সালে যখন কোম্পানি ধীরে ধীরে উন্নতি করছিল, তখন একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা ৫% অংশীদারিত্বের বিনিময়ে ১ কোটি ডলার (প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যায়ন) বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এই চুক্তির শর্ত ছিল যে ৭-৮ বছরের মধ্যে কোম্পানিটিকে হয় বিক্রি করতে হবে অথবা আইপিও (IPO) আনতে হবে। শ্রীধর বেম্বু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তিনি কোম্পানির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেয়েছিলেন এবং কোনো বাহ্যিক চাপের মুখে আসতে চাননি।

জোহো নিজেদের মুনাফাকেই পুনরায় বিনিয়োগ করে নতুন নতুন প্রোডাক্ট লাইন তৈরি করেছে। প্রথমে WebNMS থেকে আয়, তারপর সেই অর্থ দিয়ে ManageEngine নামে আইটি সফটওয়্যার তৈরি, এবং অবশেষে তার থেকেই Zoho-র জন্ম। এই স্বনির্ভর মডেলই তাদের শক্তিতে পরিণত হয় এবং একটি সফল প্রোডাক্ট পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করে। ২০০১ সালের ডট-কম ক্র্যাশের সময় অনেক ফান্ডেড কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলেও, বেম্বু এবং তাঁর দলের সীমিত খরচ এবং অযাচিত সম্প্রসারণ না করার কৌশলের কারণে জোহো টিকে থাকে। সে সময় ২৫ মিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটি কেনার প্রস্তাব এলেও বেম্বু তা ফিরিয়ে দেন।

বেম্বু মনে করেন মেধা শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাই তিনি ছোট শহরগুলিতে Zoho-র অফিস খুলতে শুরু করেন। এর ফলে কম খরচে অধিক কর্মসংস্থান হয় এবং কোম্পানি আরও শক্তিশালী হয়। ২০০৪ সালে তাঁরা “Zoho School of Learning” শুরু করেন, যেখানে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। আজ, Zoho ১৫০টিরও বেশি দেশে ১০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী এবং লক্ষাধিক কোম্পানিকে পরিষেবা প্রদান করে চলেছে।