গাজা তো সম্পূর্ণ ধ্বংস, যেন ‘মৃত্যুপুরী’তে ফিরছেন বাসিন্দারা, শান্তি প্রতিষ্ঠা কি কেবল স্বপ্ন?

ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা সামনে আসছে। গত তিন দিনে হাসপাতালগুলো অন্তত ৩২৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ২৯৫টি মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর খবর যেখানে শোকের ছায়া ফেলেছে, সেখানেই হাজার হাজার প্যালেস্তাইনবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দক্ষিণ গাজা থেকে গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন।

মাসখানেক আগে ইজরায়েলি অভিযানের মুখে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এই মানুষগুলো ধসে পড়া টাওয়ার ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে, কেউ বা গাধার গাড়ি বা ছোট ট্রাকে করে ২০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করছেন। অপুষ্টি ও মাসের পর মাস বাস্তুচ্যুতির কারণে তারা ক্লান্ত ও দুর্বল। তাদের অনেকেই হতাশা থেকে ফিরছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে নয়। বহু মানুষ ফিরে দেখছেন, তাদের ঘরবাড়ি আর অক্ষত নেই। প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ এই এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ সমাপ্তি’ ঘোষণা এবং শান্তি চুক্তি:

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। ইজরায়েলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গাজায় যুদ্ধ শেষ হয়েছে… আমরা সবাইকে খুশি করতে যাচ্ছি। সবাই খুশি। তা সে ইহুদি হোক, মুসলিম হোক বা আরব দেশগুলো।” ট্রাম্প জানান, এই শান্তি চুক্তিতে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী, জর্ডনের রাজা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রনেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন। ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধনও এই চুক্তির অংশ হতে চলেছেন।

এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়াকে ‘একটি নতুন পথের সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রেড ক্রসের মাধ্যমে হামাসের হাতে বন্দি ৬ জনকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বাকি ১৪ জনকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে। নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য একটি ব্যক্তিগত নোটসহ ‘রিসেপশন কিট’ পাঠিয়েছেন, যেখানে লেখা আছে: “ইজরায়েলের সমস্ত জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগত। আমরা আপনাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। আপনাদের আলিঙ্গন করছি।”

অন্যদিকে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছে, ৭ মাস পর প্রথমবারের মতো গাজায় রান্নার গ্যাসের সরবরাহ পৌঁছেছে। তবে শেইখ রাদওয়ান, কারামা এবং বিচ ক্যাম্পের মতো এলাকায় ফেরা বাসিন্দারা দেখছেন আবাসিক ব্লকগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা স্পষ্ট। এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, “ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা দেখুন, তারা সবকিছু ধ্বংস করেছে।” গাজায় স্থায়ী শান্তি ও পুনর্বাসন এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।