দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়া গণধর্ষণ, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ঝড়, জাতীয় সড়কে ধুন্ধুমার, লকেটকে ঢুকতে ‘বাধা’

ওড়িশার মেডিক্যাল পড়ুয়ার গণধর্ষণ কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে, ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রাজনৈতিক ঝড়
উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরের এই গণধর্ষণ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ওই মেয়েটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়ছিল। সেখানে কার দায়িত্ব? রাত সাড়ে ১২টার সময় তাঁরা কী করে বাইরে গেল? আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে ঘটনাটি জঙ্গল এলাকায় ঘটেছে। রাত সাড়ে বারোটায় কী ঘটেছে, জানি না। তবে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে।” মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লকেটের পাল্টা: “মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন রাজ্য নিরাপদ নয়”
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরই তার তীব্র বিরোধিতা করে পাল্টা দেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দেশের মহিলারা রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদের নিধন করে ফিরে আসে। আর মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, বেসরকারি কলেজের বাইরের জঙ্গল আছে, সেখানে রাতের অন্ধকারে বেরোনোর কী ছিল? তার মানে মুখ্যমন্ত্রী এতদিনে স্বীকার করেছেন যে এ রাজ্য মহিলাদের জন্য নিরাপদ নয়।”

নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বাধা, ধুন্ধুমার হাসপাতাল চত্বরে
এদিন দুর্গাপুরের যে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া ওই নির্যাতিতা ছাত্রী, সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য হাসপাতালে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। এর পরই পুলিশের সঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বাদানুবাদ শুরু হয়। তিনি মেডিক্যাল কলেজের ইমারজেন্সি গেটে বসে প্রতিবাদ জানান।

জাতীয় সড়ক অবরোধ, আটক সাংসদ-বিধায়ক
গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন দীর্ঘক্ষণ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। প্রায় ৩৫ মিনিট পর অবরোধকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পিয়ালা কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। এ সময় পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই, ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধারা-সহ একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এরপর যানজট মুক্ত হয় জাতীয় সড়ক।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে সহপাঠীর সঙ্গে খাবার খেতে হস্টেল ক্যাম্পাসের বাইরে যান দ্বিতীয় বর্ষের ওই ডাক্তারি পড়ুয়া। তখনই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ জনের মধ্যে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার ও একজনকে আটক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।