‘মহিলা হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত মমতার!’ দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের

দুর্গাপুরে মেডিক্যাল ছাত্রীর গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত অসংবেদনশীল’ আখ্যা দিয়ে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তুলেছেন বাংলার মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে।
শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, ওড়িশার বাসিন্দা ২৩ বছরের এক তরুণী এক বন্ধুর সঙ্গে খাবার কিনতে বাইরে বের হন। অভিযোগ, রাত ১২:৩০-এর দিকে ৫-৬ জন দুষ্কৃতী তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক অত্যাচার করে এবং ধর্ষণ করে।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক
এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাত আটটার পরে মেয়েরা কেন বাইরে বেরোবে?” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরোধী দল বিজেপি সরব হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের তীব্র আক্রমণ
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল বলেন:
“মহিলা হিসেবে লজ্জা হওয়া উচিত মমতার! বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন নিজেকে গর্ব করেন, তখন কেন বাংলার মেয়েরা নিরাপদ নয়? মমতার এই মন্তব্য অত্যন্ত অসংবেদনশীল।”
তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের ধরার বদলে তিনি অভিযোগকারিণীকেই দোষারোপ করছেন। হোস্টেল থেকে বের হওয়ায় মেয়ের দোষ? তিনি ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি প্রথমে একজন মহিলা, এবং বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে বাংলার মেয়েরা নিরাপদ নয়, সেখানে এমন কথা বলা লজ্জার!”
‘এটি তৃণমূলের শাসনের ব্যর্থতা’
প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্যের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে বলেন, “প্রত্যেকবার এনসিআরবি ডেটা নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু ডেটা এমন কারণ অপরাধ রিপোর্ট হয় না। সরকারের দায়িত্ব মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “আরজে করের পরও কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। এটি তৃণমূলের শাসনের ব্যর্থতা।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তা আশা করাই বৃথা। বাংলার বুকে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরণের গণধর্ষণের ঘটনা রাজ্যের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে রাজনীতির ময়দানে তৈরি হয়েছে নয়া উত্তেজনা।