বিহারের ধাঁচে এবার বাংলাতেও SIR-প্রস্তুতি! রাতেই রাজ্যে কমিশনের ৪ কর্তা, পাখির চোখ ৩ জেলা

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া শুরু করতে এবার বিহারের পর বাংলাতেও তৎপর হলো নির্বাচন কমিশন। এই SIR-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ রাতেই রাজ্যে আসছেন কমিশনের ৪ জন বিশেষ কর্তা, যার মধ্যে রয়েছেন জ্ঞানেশ ভারতীও। রাজ্যের তিনটি জেলা পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার ওপর কমিশনের বিশেষ নজর রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

কেন ৩ জেলায় বিশেষ নজর?
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই তিনটি জেলাকে প্রথমে বেছে নিল নির্বাচন কমিশন? রাজনৈতিক সূত্রে খবর:

বিরোধী দলনেতার জেলা: বিরোধীদের অভিযোগের কারণে পূর্ব মেদিনীপুর কমিশন-এর পাখির চোখ হতে পারে।

বিজেপির অভিযোগ: বিজেপির অভিযোগ ছিল, সরকারি কর্মী বাদ দিয়ে কেন বেসরকারি কর্মীদের বিএলও (BLO) হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এই অভিযোগ মূলত বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ছিল।

ভোটার তালিকার অসঙ্গতি: কমিশনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বাঁকুড়ায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তুলনায় ২০২৫ সালের তালিকায় বিস্তর নাম পাওয়া যায়নি, যা খতিয়ে দেখা হবে।

কমিশনের কর্মসূচী
কমিশনের এই বিশেষ টিম রাজ্যে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবে:

আজ রাতে: কমিশনের ৪ কর্তা কলকাতায় আসছেন।

বুধবার: উত্তরবঙ্গ বাদে সব জেলার DM (জেলাশাসক) এবং ERO (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা।

রাজারহাট-গোপালপুর: বৈঠকের পর রাজারহাট-গোপালপুর এলাকায় বিশেষ পরিদর্শন করবে কমিশন। সেখানকার DEO (ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার), আইটি সেল ও ERO-দের নিয়ে বৈঠক হবে।

বৃহস্পতিবার: সকাল দশটায় কোলাঘাটে পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার সঙ্গে বৈঠক হবে।

সূত্রের খবর, রাজ্যে প্রায় ৫০০ জন বিএলও-র সঙ্গেও সরাসরি বৈঠক করবে কমিশনের বিশেষ টিম। এর মধ্যেই সেখানকার ERO-দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে, এসআইআর নিয়ে কমিশন এবার ময়দানে নেমেই কাজ করতে চায়, তা স্পষ্ট।

এর আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অতিরিক্ত জেলাশাসক, ERO, AERO এবং ইলেকশন ওসি-দের নিয়ে প্রশিক্ষণ বৈঠক করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তরফে শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লক্ষ। এই প্রক্রিয়ায় তার দ্বিগুণ পরিমাণ, অর্থাৎ প্রায় ১৫ কোটি ফর্ম ছাপানোর কথা বলা হয়েছে। ফর্মের ধাঁচ বিহারের সংশোধন সংক্রান্ত ফর্মের মতোই হবে বলে জানা গিয়েছে।