উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ভাঙন! বিজেপির প্রাক্তন প্রার্থী রাহুল লোহার যোগ দিলেন তৃণমূলে, চা বলয়ে নতুন সমীকরণ

আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এলো। মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়াই করা রাহুল লোহার এবার গেরুয়া শিবির ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবরাইক তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

২০২৪ সালের উপনির্বাচনে রাহুল লোহার বিজেপির ভরসার প্রার্থী হলেও, তিনি তৃণমূল প্রার্থী জয় প্রকাশ টোপ্পোর কাছে পরাজিত হন। সেই প্রাক্তন প্রার্থীর দলবদল উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
তৃণমূলে যোগদানের পর বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল লোহার। তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবরাইক এদিন দাবি করেন, এসব কারণেই হতাশ হয়ে রাহুল লোহার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বিজেপি চা বলয়ের জন্য কিছুই করেনি। অথচ এখান থেকে সাংসদ-বিধায়ক অনেকেই বিজেপির। রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে, কিন্তু বিজেপি নেতারা শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নানান দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন বিজেপির নেতারা।”

চা বলয়ের ভোট-রাজনীতিতে প্রভাব
উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধানসভা আসন মূলত চা শ্রমিকদের ভোটব্যাঙ্কের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই শ্রমিক ভোটকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বরাবরই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। রাহুল লোহারের মতো একজন পরিচিত প্রাক্তন প্রার্থীর দলবদল তৃণমূলকে মাঠ পর্যায়ে শক্তি জোগাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে এই ঘটনাকে “ব্যক্তিগত উচ্চাশার ফল” বলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। যদিও সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও স্বীকার করছেন অনেকে। আসন্ন পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের আগে এই দলবদল তৃণমূলের জন্য বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষত যখন বিজেপির বিরুদ্ধে “চা শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যর্থতার” অভিযোগ উঠছে বারবার।