ইলিশের অভাবে পুজোয় মন খারাপ? মাত্র ১৩ দিনে কেন নামমাত্র ইলিশ পাঠাল বাংলাদেশ? উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশের সুস্বাদু ইলিশ মাছের (Hilsa Fish) জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন এপার বাংলার মানুষ। এ বছর প্রথম দিকে সরকার পরিবর্তন নিয়ে কূটনৈতিক জটিলতার সংশয় তৈরি হলেও, পরে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রপ্তানিতে প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার ধারেকাছেও যায়নি আসল রপ্তানির পরিমাণ।

লক্ষ্যের ধারেকাছেও নেই রপ্তানি
চলতি বছরে বাংলাদেশ সরকার মোট ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর রপ্তানি শুরু হয় এবং ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বেনাপোল এবং আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে মোট ১৩ বার ইলিশ পাঠানোর পরেও মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪৪ টন ৪৮৯ কেজি। এর মধ্যে প্রায় ৩৯ টনের কিছু বেশি ইলিশ ত্রিপুরায় গিয়েছে।

বলাই বাহুল্য, অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে যে ইলিশ এসেছে, তা নামমাত্র। গত বছরও যেখানে ৫৭৭ টন ইলিশ এসেছিল, সেখানে এবার রপ্তানির পরিমাণ তার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি।

বাজারে চড়া দাম, কারণ কী?
এত কম পরিমাণে ইলিশ আসায় স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর দামের কোনো হেরফের হয়নি, উল্টে চাহিদার জেরে দাম বেড়েছে হু হু করে।

দামের চিত্র: ১ কেজি পদ্মার ইলিশ ব্যবসায়ীরা কিনেছেন প্রায় ১১০০ ভারতীয় মুদ্রায়। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরো বাজারে এই মাছের দাম কেজি প্রতি প্রায় ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা ছুঁয়েছে।

কেন এল না পর্যাপ্ত ইলিশ?
ব্যবসায়ী ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এত কম মাছ রপ্তানির পেছনে প্রধান কারণ সময়ের অভাব। যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব ছিল না।

১. কম সময়: দুর্গাপূজার জন্য পাঁচ দিন সমস্ত বন্দর দিয়েই আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। ফলত, ইলিশ রপ্তানির জন্য সময় মিলেছিল মোটে ১৩ দিন।

২. আবেদন উপেক্ষা: রপ্তানির জন্য আরও বেশি সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, বাংলাদেশ সরকার নাকি সেই কথা কানে তোলেনি।

অনেকেই এই পরিস্থিতিকে মহম্মদ ইউনূসের কূটনীতির প্রভাব বলে মনে করছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাবের কারণেই সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার জেরেই বাজারে ইলিশের এই অগ্নিমূল্য, এমনটাই ধারণা একাংশের।