ভিড় সামলাতে ‘সফট কন্ট্রোল’ নীতি পুলিশের! বারাসত কালীপুজোয় লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

লক্ষ্মীপুজো শেষ হতে না হতেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও মধ্যমগ্রাম। এই দুই অঞ্চলের কালীপুজো শুধু ধর্মীয় আরাধনা নয়, এটি এখন দুর্গাপুজোর সমতুল্য এক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রঙিন উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই এখানে দেখা যায় বিপুল ভিড়, আলোর আড়ম্বর এবং বিগ বাজেটের থিমের প্রতিযোগিতা।
থিমের লড়াই, বার্তা দেবে মণ্ডপ
দুই অঞ্চলের বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই পুরোদমে মণ্ডপ নির্মাণ এবং প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এবারের পুজোয় থিমের বৈচিত্র্য লক্ষ্যণীয়। কোথাও থিম নারীশক্তি, কোথাও পরিবেশ রক্ষা, আবার কেউ তুলে ধরছেন ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা।
উদ্যোক্তারা বলছেন, “আমরা চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে এমন কিছু ভাবতে চাই, যাতে দর্শনার্থীরা শুধু পুজো নয়, একটা বার্তা নিয়েও বাড়ি ফেরেন।” এই প্রতিযোগিতাই বারাসত ও মধ্যমগ্রামের কালীপুজোকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি
কালীপুজোর সময় এই দুই এলাকায় লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড় হয়। ভিড় সামলানো, যান নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বারাসত জেলা পুলিশ এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সিসিটিভি নজরদারি, মোবাইল পেট্রোলিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ঠাকুর দেখতে পারেন, তার জন্য একাধিক পথনির্দেশিকা বসানো হচ্ছে।
‘ওয়ান ওয়ে’ ব্যবস্থা: কিছু জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপে ‘ওয়ান ওয়ে’ দর্শনার্থী প্রবেশ ও নির্গমনের পথ চালু করা হবে।
‘সফট কন্ট্রোল’: ভিড় সামাল দিতে লাঠিচার্জের বদলে পুলিশ এবার ‘সফট কন্ট্রোল’ মডেল ব্যবহার করার কথা ভাবছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়েও বিশেষ নজরে রাখছে প্রশাসন। আলোর খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা ধরনের স্টলকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর পর কালীপুজোতেই আবার আনন্দ আর আড্ডার রঙে মেতে ওঠার জন্য প্রস্তুত বারাসত ও মধ্যমগ্রাম।