অলৌকিক সুযোগ! এই একটি দিনেই তারা মায়ের মূর্তিতে হাত ছোঁয়ানোর অনুমতি পেলেন ভক্তরা, কারণ জানলে চমকে যাবেন!

দুর্গাপুজোর ঠিক পরেই অর্থাৎ শুক্লা চতুর্দশীর এই বিশেষ তিথিতেই শুরু হল তারাপীঠে দেবীর আবির্ভাব তিথি উৎসব। বছরের এই একটি মাত্র দিনের জন্য মা তারার দর্শন এবং আরাধনায় ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। এই দিনে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল প্রথা পালন করা হয়, যার টানে দূর দূরান্ত থেকে আসেন ভক্তরা।
গর্ভগৃহ থেকে বিরাম মঞ্চে মা তারা
নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, চতুর্দশী তিথিতে ভোরেই প্রাচীন প্রথা মেনে দেবীকে মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ (Sanctum Sanctorum) থেকে বের করে বিরাম মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। ভোরে দেবীর স্নান পর্ব সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলারতি-সহ ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পুজো শেষ করে দর্শনার্থীদের জন্য বিরাম মঞ্চের দরজা খুলে দেওয়া হয়।
এই তিথির সবচেয়ে বড় মাহাত্ম্য হল— একমাত্র এই দিনেই দর্শনার্থীরা সরাসরি দেবীর মূর্তিকে স্পর্শ এবং পুজো করতে পারেন। প্রথম পুজোটিও দেবীর কাছে এই দিনে নিবেদন করা হয়। এই বিশেষ উৎসব উপলক্ষে এদিন তারাকে রাজবেশ পরানো হয়।
আবির্ভাবের কিংবদন্তী: শ্মশান থেকে শিলামূর্তি
তারাপীঠের আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিশেষ কিংবদন্তী। কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময় স্বপ্নে তারা মায়ের নির্দেশ পেয়ে জয়দত্ত সদাগর শুক্লা চতুর্দশীর এই তিথিতেই মহাশ্মশান থেকে তাঁর শিলামূর্তি উদ্ধার করে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই উপলক্ষে প্রতি বছর এই বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাশ্মশানের একটি শ্বেত শিমূল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনের নীচে মা তারার সেই আদি শিলামূর্তিটি রয়েছে। জয়দত্ত সওদাগরই এই মূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনিই এই তিথিতে প্রথম পুজো প্রচলন করেছিলেন।
সতীপীঠ নয়, এটি এক ‘সিদ্ধপীঠ’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তারাপীঠকে অনেকেই সতীপীঠ বলে ভুল করেন, কিন্তু এটি আসলে একটি শক্তিপীঠ। কথিত আছে, এখানে মহর্ষি বশিষ্ঠের দীর্ঘ তপস্যার পর দেবী তাঁকে মাতৃরূপে দর্শন দেন। অন্যদিকে, তারা মায়ের একনিষ্ঠ ভক্ত বামাক্ষ্যাপা এই মহাশ্মশানের দ্বারকার ধারেই তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। এই কারণেই তারাপীঠ এক সিদ্ধপীঠ হিসেবেও পরিচিত।
বর্তমানে সেই দ্বারকার ধারে যেখানে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন বামাক্ষ্যাপা, সেই তারাপীঠ মহাশ্মশানকে ঘিরে আজও নানা কাহিনি ও বিশ্বাস আবর্তিত হয়।