আগ্রায় বন্দুক ঠেকিয়ে তরুণীকে ‘অপহরণের চেষ্টা’! শিক্ষকের চরম আস্ফালন, কীভাবে নিজেকে বাঁচালেন সাহসী তরুণী

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় এক তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানোর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। মথুরার বলদেব এলাকার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে এই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?
২২ বছর বয়সী ওই তরুণী গত শনিবার সন্ধ্যায় (২০ সেপ্টেম্বর) বন্ধুদের সঙ্গে কারগিল স্কোয়ারের কাছে ঘুরতে গিয়েছিলেন। মুন লাইট হোটেলের সামনে তিনি স্কুটার থামিয়ে জল খাওয়ার সময় একটি গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি তাঁর কাছে আসে।
সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্কর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত শ্যামবীর সিং প্রথমে ওই তরুণীকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গাড়িতে ওঠার জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন। তরুণী বারবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত হঠাৎ রগে ফেটে পড়েন।
এরপর এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে এসে তরুণীর হাত চেপে ধরে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে।
তরুণী প্রাণপণে লড়াই করেন, লাথি মারেন এবং জোরে চিৎকার করতে শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে।
পিস্তল বের করে ভয় দেখালেন শিক্ষক
জনতা জড়ো হতে দেখে অভিযুক্ত শ্যামবীর সিং নিজের লাইসেন্স পিস্তল বের করে তরুণীকে হুমকি দেন। এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে বন্দুক তাক করে তাঁকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সাহসী তরুণী আরও জোরে চিৎকার করতে থাকেন। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি কৌশলে অভিযুক্তের গাড়ির চাবি কেড়ে নেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, জনতার চাপে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গাড়ি দিয়ে তরুণীকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
ঘটনার পর তরুণী শিকান্দরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আগ্রা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত শ্যামবীর সিংকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে।
আগ্রার পুলিশ উপকমিশনার (ডিসিপি) সোনম কুমার জানিয়েছেন, অভিযুক্তের লাইসেন্স করা বন্দুক এবং তার গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের বন্দুকের লাইসেন্স বাতিলের জন্য শীঘ্রই চিঠি পাঠানো হবে। একই সঙ্গে, পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্তের সহযোগীকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় নাগরিকেরা অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।