পাহাড়ে বিপর্যয়, ধসে চাপা পড়ে মৃত অন্তত ২০, নেপাল সীমান্তে ৫ জনের দেহ উদ্ধার, পর্যটকদের ফেরাতে তৎপর প্রশাসন

রাতভর টানা বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়। ভয়াবহ ধস ও বন্যায় চাপা পড়ে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এদিকে, ভারত-নেপাল সীমান্তে মানেভঞ্জনে ধসের কারণে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ নেপালি নাগরিকের।
এসএসবি জওয়ানদের ৩০ জনের একটি বিশেষ দল সেখানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে মৃতদের দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১২ এবং ১০ বছর বয়সী দুই শিশুও। বৃষ্টি কিছুটা থামতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে ধস সরিয়ে সড়ক স্বাভাবিক করার কাজ।
এনডিআরএফ ও সেনার উদ্ধারকাজ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (NDRF)। দার্জিলিং ও নাগরাকাটা এলাকায় তিনটে NDRF দল পাঠানো হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা ও পুলিশ। প্রশাসনের তরফে চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর জানিয়েছেন, পর্যটকদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ চালু করা হয়েছে। সুকনায় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের তরফে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
পর্যটকদের দুর্ভোগ: ৭ ঘণ্টার পথ
এই বিপর্যয়ের ফলে পাহাড়ে আটকে থাকা পর্যটকরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। যেখানে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে সাধারণত আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ধসের কারণে এখন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।
বহরমপুর থেকে আসা এক পর্যটক সঞ্জু ঘোষের কথায়, “এত ধস নেমেছে বলার নেই। আড়াই ঘণ্টার রাস্তা ৬ ঘণ্টায় এলাম। খুব খারাপ পরিস্থিতি।” স্থানীয়দের দাবি মেনে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণার দাবি তুলেছে।
আপাতত স্বাভাবিক কয়েকটি সড়ক, তবে ঝুঁকি রয়েছে
জিটিএ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সকাল থেকে টানা ধস সরানোর চেষ্টায় কিছু সড়ক পথে যান চলাচল শুরু হয়েছে:
বাংলা-সিকিম লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে ধস সরিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে, তবে ওই সড়কে এখনও ধসের ঝুঁকি রয়েছে।
বিকল্প ৩১৭-এ জাতীয় সড়ক থেকেও ধস সরানো হয়েছে।
মিরিক থেকে পশুপতি হয়ে ঘুম যাওয়ার সড়ক স্বাভাবিক হয়েছে।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কও স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তবে, দুধিয়া হয়ে মিরিক যাওয়ার সড়ক এবং দার্জিলিং থেকে পুলবাজার যাওয়ার সড়ক এখনও বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের আপাতত সুখিয়াপোখরি হয়ে ঘুম হয়ে কার্শিয়াং হয়ে শিলিগুড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাতিল একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন
পাহাড় পরিস্থিতির কারণে আগামী ৬ অক্টোবর একাধিক এক্সপ্রেস ও ইন্টারসিটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে – শিলিগুড়ি-বামনহাট ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, শিলিগুড়ি-ধুবড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, নিউ জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ার টুরিস্ট এক্সপ্রেস সহ অন্যান্য কয়েকটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন।