আডবাণীর মতো আচরণ করুন!’ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ডেপুটি CM সম্রাট চৌধুরীকে নজির দেখালেন অশ্বিনী চৌবে

দীর্ঘদিন বিহারের ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি রাজ্যে এককভাবে বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারেনি। এক সময় যেমন কংগ্রেস আরজেডির অনুগামী ছিল, তেমনই বিজেপি এতদিন নীতীশ কুমারের জেডিইউ-এর ছায়া অনুসরণ করেছে। সুশীল মোদীর মতো নেতা দীর্ঘকাল উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও, তাঁর পরে বিজেপির আর কোনও ‘প্যান-বিহার’ নেতা তৈরি হয়নি।
শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ:
২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকা সত্ত্বেও বিহারে দলের কোনও সর্বজনীন নেতা নেই। সম্প্রতি বিজেপি চারজন নেতাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু সুশীল মোদীর পর তার কিশোর প্রসাদ, রেণু দেবী, সম্রাট চৌধুরী এবং বিজয় কুমার সিনহা কেউই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি। উল্টে, দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত হয়েছেন।
জন সুরাজ-এর নেতা প্রশান্ত কিশোর (PK) বিজেপি নেতা দিলীপ জয়সওয়াল, সঞ্জয় জয়সওয়াল, মঙ্গল পান্ডে এবং সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। এই অভিযোগগুলি এতটাই গুরুতর যে নির্বাচনী মরসুমে জনগণের কাছে পরিষ্কার জবাব দিতে পারছে না দল।
দলের অন্দরেই বিদ্রোহ:
এবার পার্টিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী দলের নেতাদেরই নিশানায় এসেছেন। প্রশান্ত কিশোর তাঁর বিরুদ্ধে বয়সে গড়মিল, জাল ডিগ্রি, একাধিক নাম এবং একাধিক হত্যায় জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
এই অভিযোগগুলিকে অনেকে ‘রাজনৈতিক বিদ্বেষ’ মানতে রাজি নন, কারণ দলের ভেতরেও অনেকে সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন। প্রথমে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরকে সিং এবং এখন অশ্বিনী চৌবে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই আরকে সিং দলের প্রতি ক্ষুব্ধ, কারণ তিনি তাঁর হারের জন্য সম্রাট চৌধুরীকে দায়ী করেন।
আরকে সিং-এর কড়া বার্তা:
বরিষ্ঠ বিজেপি নেতা আরকে সিং প্রকাশ্যে সম্রাট চৌধুরীর কাছে অভিযোগের জবাব চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি সম্রাট চৌধুরী এই অভিযোগগুলির জবাব না দেন, তবে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। তাঁর চুপ থাকা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।” প্রশান্ত কিশোরের দাবি, সম্রাট চৌধুরী মাত্র সপ্তম শ্রেণী পাস, কিন্তু তাঁর কাছে ডি-লিট ডিগ্রি আছে। আরকে সিং পরামর্শ দিয়েছেন, সম্রাট যেন তাঁর ম্যাট্রিক বা স্নাতকের আসল শংসাপত্র দেখান।
অশ্বিনী চৌবের ‘আডবাণী’ উদাহরণ:
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবেও এই অভিযোগে ক্রুদ্ধ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কিছু লোক পার্টিতে পেছনের দরজা দিয়ে আসে… যারা না শুধরায়, তাদের জনসাধারণ শুধরে দেয়।” (সম্রাট চৌধুরী বিভিন্ন দল ঘুরে বিজেপিতে এসেছেন)। চৌবে সম্রাটকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে লালকৃষ্ণ আডবাণীর উদাহরণ দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে জৈন হাওয়ালা কাণ্ডে যখন আডবাণীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তখন তিনি লোকসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন এবং মামলা থেকে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত লোকসভায় যাননি। চৌবে বলেন, হাইকমান্ড সবকিছু দেখছে।