‘পাক গুপ্তচরের মিথ্যা অভিযোগ’, ‘উইচ হান্ট’ চালাচ্ছে পুলিশ! কেন ওয়াংচুককে আটক? PM মোদিকে খোলা চিঠি স্ত্রীর!

পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে বেআইনিভাবে আটক করার অভিযোগ তুলে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমো অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওয়াংচুককে যোধপুরে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁর স্ত্রী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ল্যাদাখ পুলিশ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা এজেন্ডা’ চালাচ্ছে এবং তাঁকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের মতো গুরুতর অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

আংমো আরও দাবি করেছেন, ডিজিটি যে বক্তব্যই দিচ্ছেন, তার পিছনে একটি সুনির্দিষ্ট ‘এজেন্ডা’ রয়েছে। তাঁর কথায়, “ওঁরা ষষ্ঠ তফশিল (Sixth Schedule) বাস্তবায়ন করতে চান না এবং এর জন্য কাউকে বলির পাঁঠা বানাতে চাইছেন।” তিনি ল্যাদাখ পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে ভুলভাবে নিশানা করার এবং তাঁর পরিবেশমূলক কাজকে দমন করার অভিযোগ এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি: ‘ওয়ানচুক দেশের জন্য কখনওই বিপদ হতে পারেন না’

গীতাঞ্জলি আংমো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে চিঠি লিখেছেন। ‘এক্স’ (আগে টুইটার) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে তিনি বলেছেন, “আধিকারিকরা গত এক মাস ধরে ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’ (Witch Hunt) চালাচ্ছেন, যার একমাত্র উদ্দেশ্য এই জলবায়ু কর্মীর মনোবল ভেঙে দেওয়া। ওয়াংচুক কখনওই কারও জন্য, বিশেষত নিজের দেশের জন্য, বিপদ হতে পারেন না।”

আংমো তাঁর চিঠিতে মৌলিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন তাঁকে তাঁর স্বামীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না এবং কেন তাঁর নজরবন্দির কারণ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে আমার স্বামী আমার বা আমাদের কোনো ঘনিষ্ঠের সঙ্গে দেখা করেননি। ভারতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কি আমরা শান্তিপূর্ণ অভিব্যক্তি ও চলাফেরার স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকারী নই?” উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ-তে প্রতিবাদ চলাকালীন সহিংসতা ছড়ানোর পরই ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (NSA) অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।