বাঁধ থেকে ছাড়া জলে গোদাবরী প্লাবনের আশঙ্কা! নাসিক-জালনা থেকে মারাঠওয়াড়া, বুধবার পর্যন্ত মহাবিপদ মহারাষ্ট্রে।

প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাণিজ্যনগরী মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকালের মধ্যে বৃষ্টি সংক্রান্ত ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জলে ডুবে এবং অন্যান্য বৃষ্টিজনিত কারণে বাকিদের প্রাণহানি হয়েছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতি জানার পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মুম্বইয়ে নতুন করে দুর্যোগ
সোমবার সকাল থেকে মুম্বইয়ের অন্ধেরি, মালাড, বরিভালি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর ফলে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। রবিবার মুম্বই শহরে গড়ে ৪৭.৪৭ মিলিমিটার এবং শহরতলিতে ৫৩.৬১ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে আন্ধেরির সাবওয়ে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এর প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও। মুম্বই শহর এবং আশপাশের এলাকার যাতায়াতের প্রধান ভরসা লোকাল ট্রেনগুলো কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরিতে চলছে। মোটর বাইক আরোহীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন এবং রাস্তার পাশে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে।
একাধিক জেলায় হলুদ সতর্কতা, স্কুল বন্ধ
পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ছত্রপতি সাম্ভাজি নগর জেলার সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য কয়েকটি জেলাতেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্রপতি সাম্ভাজি নগরের সর্বত্র ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এছাড়া নাসিক, জালনা, ধুলে, জলগাঁও, নান্দুরবার এবং মারাঠওয়ারার মতো অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সেখানেও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাঁধ থেকে জল ছাড়া, গোদাবরীতে প্লাবনের আশঙ্কা
মুম্বইয়ের পাশাপাশি নাসিক, অহল্যানগর এবং মারাঠওয়ারার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে নাসিকের একটি বাঁধ থেকে জল ছাড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। গোদাবরী নদী প্লাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং সেই মর্মে প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবারের পর থেকে পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হতে শুরু করবে এবং বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসবে। ততদিন পর্যন্ত মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় এই দুর্যোগ চলতে থাকবে, যার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুম্বই শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে পুরনিগম কাজ করছে।