রাজ্যের জমিতে বিশ্বভারতীর ‘দখল’! অনুমতি ছাড়াই তোরণ নির্মাণ, উপাচার্যকে ঘিরে ফের বিতর্ক শান্তিনিকেতনে?

পুজোর মধ্যেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে। বিশ্বভারতীকে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর তকমা পাওয়ার আবহেই ফের রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে গেল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকারের পূর্ত বিভাগের জমিতে কোনও রকম অনুমতি না-নিয়েই তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল বিশ্বভারতী।

তোরণ নির্মাণ বিতর্ক

সদ্য উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রবীর কুমার ঘোষ। তিনি বিশ্বভারতীর চারটি তোরণ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রখ্যাত শিল্পী সুরেন্দ্রনাথ করের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে কলাভবনের শিল্পী-অধ্যাপক ও পড়ুয়ারা এই তোরণগুলি তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেই মতো, দমকল বিভাগের সামনের রাস্তা, কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেটের কাছে, রতনকুঠি গেস্ট হাউজ সংলগ্ন রাস্তা ও কালিসায়র মন্দির সংলগ্ন রাস্তায় চারটি তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

কিন্তু এই চারটি তোরণের মধ্যে দমকল বিভাগের সামনের রাস্তার তোরণটি বাদে বাকি তিনটিই নির্মাণ হচ্ছিল রাজ্যের পূর্ত বিভাগের (PWD) জায়গায়।

পূর্ত বিভাগের সরাসরি অভিযোগ

সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের কাছে কোনও অনুমতি না-নিয়েই বিশ্বভারতীর ইঞ্জিনিয়াররা নির্মাণ কাজ শুরু করে দেন। পূর্ত বিভাগের তরফে অনুমতি দেখতে চাইতেই, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কাজ স্থগিত করে দিতে বাধ্য হয়।

ইতিমধ্যেই বোলপুর পূর্ত বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাজকুমার বাঁঠিয়া কেন অনুমতি না নিয়ে কাজ শুরু করা হলো, এই মর্মে বোলপুরের মহকুমাশাসক অয়ন নাথ, বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল সহ পূর্ত বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আশ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া

বিশ্বভারতীর এমন ‘কাঁচা কাজ’ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে আশ্রমিক মহলেও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের অন্যতম বর্ষীয়ান সদস্য তথা আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, “এত কাঁচা কাজ কেন করল বিশ্বভারতী! অনুমতি নিয়েই তো কাজ করতে হত। জানি না, এই কর্তৃপক্ষ কী করতে চাইছেন।”

আরেক আশ্রমিক কল্পিকা মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “বিশ্বভারতী আর পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়, তোরণের কী প্রয়োজন জানি না। তবে অনুমতি নিয়েই নির্মাণ করলে ভালো হতো।”

বিরোধিতার দীর্ঘ ইতিহাস

এই প্রথমবার সরাসরি রাজ্য সরকার বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ করল। এর আগে তৎকালীন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের জমি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত চরমে পৌঁছায়। সেই বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হয়েছিলেন।

এবার উপাচার্য পরিবর্তনের পরেও তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ফের সেই সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হলো। যদিও পুজোর ছুটি থাকায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বা বীরভূম জেলা প্রশাসনের কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নতুন করে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এখন প্রশ্ন, ইউনেস্কো স্বীকৃত এই একমাত্র চলমান কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কি পুজোর ছুটির পর রাজ্যের কাছে যথাযথ অনুমতি নিয়ে তোরণ নির্মাণের কাজ ফের শুরু করবে, নাকি এই বিতর্ক আরও গভীর হবে?