“৭ দিনে ৭৭ জন আক্রান্ত”-একা বৃষ্টিতে রক্ষে নেই, উৎসবের দিনে বাড়ছে এই রোগ?

উৎসবের মরশুমেও রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গির সংক্রমণ ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর অষ্টমীতে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ায়, সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পতঙ্গবিদরা। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, এ বছরের গোড়া থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৮৫, যা মাত্র সাত দিনে (২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬২-তে। অর্থাৎ, এক সপ্তাহে নতুন করে ৭৭ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

টানা বৃষ্টির পর আবার বর্ষণের পূর্বাভাসে পতঙ্গবিদদের উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের মতে, জল জমার কারণেই ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: কলকাতা পুরসভার কর্তারা হতাশ হয়ে জানিয়েছেন, গত ২৫ আগস্ট পুজো কমিটিগুলিকে চিঠি দিয়ে মণ্ডপের চারপাশে জল না জমানো, বাঁশের খোলা মুখ ঢাকা এবং নিয়মিত রাসায়নিক স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, ৮০ শতাংশ উদ্যোক্তাই সেই নির্দেশ মানছেন না। মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েও পুর-কর্তারা জমা জল ও বাঁশের মুখ খোলা অবস্থায় দেখছেন।

আবাসনের বাসিন্দারাও অভিযুক্ত: ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষের আক্ষেপ, বারবার বলা সত্ত্বেও আবাসনের বহু বাসিন্দা ফ্রিজের ট্রে, পরিত্যক্ত ফুলের টব এবং বাড়ির ছাদে জল জমিয়ে রাখছেন, যা ডেঙ্গি ছড়ানোর অন্যতম কারণ।

পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস সতর্ক করেছেন, “পুজোর সময়েও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে মণ্ডপের আশপাশে ঠিকঠাক নজরদারি না চালালে ডেঙ্গি বাড়ার প্রবল আশঙ্কা।”

পুরকর্মীদের অভিযোগ, উত্তরের তুলনায় দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দাদের মধ্যে ফ্রিজের ট্রে বা ছাদে জল জমিয়ে রাখার প্রবণতা বেশি। সেখানেই ডেঙ্গির লার্ভা বেশি মিলছে।

অন্যদিকে, শহরবাসীর একাংশ অবশ্য পুরসভাকেই দায়ী করছেন। তাঁদের প্রশ্ন— ফাঁকা জমি, রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ডাব বা চায়ের কাপ সরানোর দায়িত্ব কার?

এই পরিস্থিতিতে পুজো কমিটিগুলিকে ফের সতর্ক করেছেন পুর-কর্তারা। যদিও ফোরাম ফর দুর্গোৎসব-এর অন্যতম কর্তা শাশ্বত বসুর দাবি, “এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষে যতটা করা সম্ভব, করছি। কোথাও খামতি থাকলে পুর-নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।” পুর-কমিশনার ধবল জৈন অবশ্য দাবি করেছেন, “ডেঙ্গিরোধে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি পুর-নজরদারিতেও কোনও খামতি নেই।”