“৪ বছর ধরে হয়রানি চলছে, পুরোটাই প্ল্যান”-কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ সোনমের স্ত্রীর

লাদাখের প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড়। তাঁর বিরুদ্ধে লাদাখ পুলিশের আনা পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মতো বিস্ফোরক অভিযোগের পর এবার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী ও সমাজসেবী গীতাঞ্জলি জে আংমো। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তাঁর স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি (Witch Hunt) করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে গীতাঞ্জলি আংমো জানান, লাদাখের সাংবিধানিক দাবি জোরালো করার পর থেকেই সরকারি সংস্থার চাপ বাড়তে থাকে।

হয়রানির শুরু: আংমোর অভিযোগ, “চার বছর আগে থেকেই গোয়েন্দা আধিকারিকরা হুমকি দিতে শুরু করেছিলেন। বিদেশি অনুদান নেওয়ার লাইসেন্স মেলেনি। আমাদের সংস্থা HIAL ও সেকমলকে টার্গেট করা হয়।”

এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল: গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ওয়াংচুক প্রতিষ্ঠিত সেকমল-এর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করে। অভিযোগ ছিল, বিদেশি অনুদান ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ সংক্রান্ত গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আংমোর দাবি, “এটা খাবারে স্বনির্ভরতা বা ফুড সোভারেনিটি নিয়ে গবেষণা ছিল। বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে।”

লাদাখ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল এস ডি সিংহ জামওয়াল সোনম ওয়াংচুকের পাকিস্তান সফর এবং এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

মহিলা পাল্টা প্রশ্ন: আংমো পাল্টা বলেন, “যদি সত্যিই কোনও পাক গোয়েন্দা আধিকারিক এখানে ঘোরাফেরা করে থাকেন, তবে সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যর্থতা। উলটে তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।”

জাতিসংঘের উদ্যোগে সফর: তিনি জানান, ওয়াংচুক ‘ব্রিদ পাকিস্তান’ শীর্ষক একটি জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবেশ উদ্যোগের প্রশংসাও করেছিলেন।

আংমোর দাবি, লেহ-এর সংঘর্ষ শুরু হতেই ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভেঙে শান্তির আবেদন জানান।

তিনি যুক্তি দেন, “যদি উসকানি দেওয়ার ইচ্ছে থাকত, তবে তিনি আরও এগোতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।”

আংমোর কথায়, নিহতদের পরিবারও বলেছেন, ওয়াংচুক দায়ী নন, কারণ তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে, অন্য পার্কে বসে অনশন করছিলেন।

গীতাঞ্জলি আংমো আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, প্রথম অনশনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এফসিআরএ-কে ‘চাপ সৃষ্টি করার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

“প্রতিদিন আমাদের বাড়িতে আইবি আসত। বলত, যদি আন্দোলন চালাও, তবে বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স বাতিল হবে,” বলেন তিনি।

গীতাঞ্জলির সাফ কথা, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পাকিস্তান-যোগ বা হিংসার উস্কানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর মতে, “এটা নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়।”

যদিও কেন্দ্র আগেও দাবি করেছিল, ওয়াংচুক আরব স্প্রিং ও নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। এই ঘটনার জেরে লাদাখে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে উঠেছে।