সংসদীয় কমিটিতে বড় সুবিধা পেতে চলেছেন শশী থারুর! মেয়াদের পরিবর্তনে কী প্রভাব পড়বে বিল ও নীতিগত পর্যালোচনায়?

দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গভীর ও কার্যকরী করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির (Parliamentary Standing Committees) কার্যকালের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দীর্ঘদিনের দাবি ও যুক্তির ভিত্তিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, নীতিগত বিষয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলির ওপর আরও বিস্তারিত ও ধারাবাহিক পর্যালোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে চলতি মাসেই এই কমিটিগুলির কার্যকাল শেষ হচ্ছে।
কেন দুই বছর করা হচ্ছে মেয়াদ?
বর্তমানে মোট ২৪টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ৩১ জন সদস্য থাকেন। এই কমিটিগুলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাজকর্ম, বাজেট এবং নীতিমালার বিশদ পরীক্ষা করে।
ধারাবাহিকতা বজায় রাখা: বিরোধী দলগুলির মূল যুক্তি ছিল, প্রতি বছর কমিটি পুনর্গঠন হলে নতুন সদস্যদের প্রবেশের কারণে কাজের ধারাবাহিকতা (Continuity) ব্যাহত হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল বা নীতির পর্যালোচনা মাঝপথে থমকে যায়।
আইনের মানোন্নয়ন: বিরোধীদের মতে, এক বছরের স্বল্প মেয়াদে জটিল বিলগুলির ওপর গভীর গবেষণা ও পর্যালোচনা শেষ করা সম্ভব হয় না, যা আইনের কার্যকরী পর্যালোচনা ও গুণমান কমিয়ে দেয়। কার্যকাল বাড়লে বিলের গুণগত মান নিশ্চিত করা যাবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: সুবিধা পেতে পারেন শশী থারুর
এই সম্ভাব্য পরিবর্তনটি বেশ কয়েকজন প্রবীণ সংসদ সদস্যের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের (Shashi Tharoor) ক্ষেত্রে। গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল। যদি কার্যকাল দুই বছরে বাড়ানো হয়, তবে তিনি আরও এক বছর অর্থাৎ দুই বছর একই পদে বহাল থাকবেন। তাঁর দলের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্তর্দ্বন্দ্বের আবহে এই সিদ্ধান্ত তাঁকে বড় সুবিধা দিতে পারে।
কমিটির চেয়ারম্যানদের মনোনীত করেন লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। সদস্যরা আসেন রাজনৈতিক দলগুলির মনোনয়ন থেকে।
সরকারের অন্দরের খবর অনুযায়ী, কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের স্বার্থে এই পরিবর্তন সংসদের কাজকর্মকে আরও গতিশীল করে তুলবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যেখানে আইন ও নীতিগত প্রশ্নগুলির বাস্তবসম্মত পর্যালোচনা হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তন সংসদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে কতটা মসৃণ করে তোলে, সেদিকেই এখন নজর ওয়াকিবহাল মহলের।