বিশেষ: কুকুর-বিড়ালের কামড়? কীভাবে ছড়ায় রেবিস, কী এর লক্ষণ ও চিকিৎসা?

প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব রেবিস দিবস (World Rabies Day)। এই দিনটির প্রধান লক্ষ্য হল রেবিস রোগের মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা, এর প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি তুলে ধরা।
২০০৭ সালে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল (GARC) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দ্বারা সমর্থিত এই দিনটি মানুষকে শিক্ষিত করা, পোষা প্রাণীদের টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং মানবদেহে রেবিস-জনিত মৃত্যু হ্রাস করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।
২৮ সেপ্টেম্বর কেন রেবিস দিবস? এই তারিখটি বেছে নেওয়ার কারণ হল, এই দিনটি রেবিস রোগের প্রথম কার্যকর টিকা আবিষ্কারক, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী লুই পাস্তুরের মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটি তাঁকে বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়। বিশ্ব রেবিস দিবসে সরকার, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পশু চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষ রেবিসের মতো মারণ রোগের বোঝা কমাতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করে।
রেবিস দিবসের মূল উদ্দেশ্য:
- সচেতনতা বৃদ্ধি: রেবিসের মারাত্মক প্রকৃতি, এটি ছড়ানোর পদ্ধতি এবং প্রতিরোধের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
- টিকাকরণের গুরুত্ব: পোষা প্রাণী এবং মানুষ উভয়ের জন্য টিকাকরণের গুরুত্ব এবং কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর সময়মতো পোস্ট-এক্সপোজার ট্রিটমেন্ট (পিইটি) নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া।
- শিক্ষা ও সমর্থন: রেবিসের লক্ষণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করা এবং দায়িত্বশীল পশু পরিচর্যা অনুশীলনকে উৎসাহিত করা।
রেবিস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- কারণ: রেবিস একটি ভাইরাস-জনিত রোগ যা সাধারণত সংক্রমিত প্রাণী (যেমন কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, শিয়াল) এর কামড় বা তাদের লালার মাধ্যমে ছড়ায়।
- সংক্রমণের প্রধান উৎস: ভারতে রেবিসের বেশিরভাগ ঘটনার জন্য কুকুরের কামড় দায়ী। তবে বিড়াল, বাঁদর, বেজি, এবং বাদুড়ের মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
- লক্ষণ: রেবিসের লক্ষণগুলি সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস পরে দেখা যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, ক্ষতস্থানে ব্যথা বা অসাড়তা, বিভ্রান্তি, জল ও আলোতে ভয় (Hydrophobia ও Photophobia), এবং শেষে পক্ষাঘাত।