বাংলায় সোনার দোকানে ৭ কোটির গয়না লুঠ, ২ দুষ্কৃতী গ্রেফতার হলো উত্তরপ্রদেশ থেকে

হুগলির সোহান গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড জুয়েলার্স থেকে ৭ কোটি টাকার গয়না ডাকাতির ঘটনার মূল হোতা অবশেষে পুলিশের জালে। উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ২৩ সেপ্টেম্বর আজমগড় জেলার গম্ভীরপুর টোল প্লাজা থেকে কুখ্যাত অপরাধী আদর্শ সিং বেহরা এবং তার সহযোগী সুরজ শেঠকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে শুধু হুগলি নয়, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে একের পর এক ডাকাতির রহস্য উন্মোচন হলো।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে লুটের টাকায় কেনা প্রায় ২০ লক্ষ টাকা, ১২টি হিরের আংটি, একটি সোনার আংটি, একটি হিরের নেকলেস, দু’টি মোবাইল ফোন এবং একটি নতুন বুলেট মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, লুটের টাকা দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিল।

গত ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে হুগলির মুখার্জি রোডের ওই দোকানে ঢুকেছিল ছয়জন সশস্ত্র ডাকাত। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে কর্মীদের জিম্মি করে তারা ৫ থেকে ৬ কেজি সোনা ও হিরের গয়না লুট করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ থেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে এবং দ্রুত উত্তরপ্রদেশ STF-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

STF-এর বারাণসী টিমের ইন্সপেক্টর অনিল কুমার সিংহের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের ধরা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আদর্শ সিং বেহরা বিহারের কুখ্যাত অপরাধীদের নিয়ে একটি গ্যাং তৈরি করেছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ২০১৯ সালে জৌনপুরে ৭৬ হাজার টাকা লুট এবং ২০২২ সালে সেখানে আরও একটি ডাকাতির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, ২০২৪ সালে বিহারের মুজাফফরপুরে একটি গয়নার দোকান থেকে ৭০০ গ্রাম সোনা ও ১ কেজি রূপো লুটের ঘটনারও মূল অভিযুক্ত সে।