ভূমধ্যসাগরে ভারতের নতুন সামরিক জোট, কোন দেশের সঙ্গে নৌ-মহড়া দিয়ে চমক দিল ভারতীয় নৌবাহিনী

ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের সঙ্গে ভারতের প্রথম যৌথ নৌ-মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এই মহড়া ভারত ও গ্রিসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশেষত, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্রিস সফরের পর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে।
ভূমধ্যসাগরের জলসীমায় ভারতীয় ত্রিকাণ্ড
১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রিসের সালামিস নৌঘাঁটিতে মহড়ার প্রথম পর্ব বা ‘হারবার পর্যায়’ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে দুই দেশের নৌসেনারা পেশাদারী আলোচনা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং কৌশলগত জ্ঞান বিনিময় করে। এর মাধ্যমে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বোঝাপড়া বাড়ে। এই পর্বে ভারতীয় নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট আইএনএস ত্রিকাণ্ড অংশ নেয় এবং তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ ক্ষমতা প্রদর্শন করে।
মহড়ার দ্বিতীয় পর্ব বা ‘সমুদ্র পর্যায়’ অনুষ্ঠিত হয় ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর। এই সময়ে আইএনএস ত্রিকাণ্ড এবং গ্রিসের নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ভূমধ্যসাগরের জলসীমায় জটিল যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। এতে নৌ-যুদ্ধ কৌশল, ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনুশীলন করা হয়। এই মহড়া দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সামঞ্জস্য বৃদ্ধি করেছে।
কেন এই সামরিক জোট গুরুত্বপূর্ণ?
এই মহড়া ভারত-গ্রিস সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছে। গ্রিস ভূমধ্যসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। এই মহড়া কেবল সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে। জলদস্যুতা এবং মানব পাচারের মতো সমস্যা মোকাবিলায় এমন সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
মহড়ার শেষে দুই দেশের নৌবাহিনী এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, এই পদক্ষেপ ভারত ও গ্রিসের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহযোগিতা জোরদার করবে। এই মহড়া ভারত-গ্রিস প্রতিরক্ষা সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।