শোওয়ার ঘর আর ঠাকুর ঘর ভর্তি টাকা, বালুরঘাটের শিক্ষকের বাড়ি থেকে কোটি টাকা উদ্ধার, কী করতেন তিনি

অনলাইন বেটিং চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গঙ্গারামপুরের এক স্কুলশিক্ষকের বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম অপূর্ব সরকার। তার পাশাপাশি এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে কুণাল দাস নামে আরও এক যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
কীভাবে চক্রের খোঁজ মিলল?
গঙ্গারামপুর পুলিশ কিছুদিন আগে অনলাইন বেটিং চক্র চালানোর অভিযোগে পিন্টু ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপূর্ব সরকার এবং কুণাল দাসের নাম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানতে পারে যে, অপূর্ব প্রায় ১০-১২ দিন ধরে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপরই পুলিশ তাকে গ্যাংটক থেকে গ্রেফতার করে।
খাট আর ঠাকুরঘরে টাকার বান্ডিল!
রবিবার পুলিশ অপূর্ব ও কুণালকে আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়। এরপরই পুলিশ অপূর্বকে সঙ্গে নিয়ে বালুরঘাট ব্লকের রঘুনাথপুর এলাকার তার শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে বাড়ির খাট ও ঠাকুরঘর থেকে টাকার বান্ডিল উদ্ধার হয়। টাকা গোনার জন্য মেশিন আনা হয় এবং সেখান থেকে মোট ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে, অপূর্বর গঙ্গারামপুরের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে আরও ১৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল জানান, “অনলাইনে বেটিংয়ে প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত শুরু করি এবং পিন্টু ঘোষকে গ্রেফতার করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপূর্ব এবং কুণালের নাম জানতে পারি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। আরও কোনো তথ্য পেলে সেই মতো তদন্ত এগোবে।”
যদিও অপূর্ব সরকার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে, তিনি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত নন এবং পিন্টু ঘোষ তাকে ফাঁসিয়েছেন। তবে কেন পিন্টু তাকে ফাঁসাবেন, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।