৬৫০ কোটি টাকার GST কেলেঙ্কারিতে পাক বধূ সীমা হায়দার, জালিয়াতির পর্দা ফাঁস করলো ইডি

ভারতে ৬৫০ কোটি টাকার এক বিশাল ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) কেলেঙ্কারিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তদন্তে জানা গেছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে শুধু হাওয়ালা এবং শেল কোম্পানিই নয়, পাকিস্তানের সীমা হায়দার ও তার স্বামী সচিনের নামও জড়িয়ে আছে।

সীমা হায়দার ও সচিনের নাম কেন এল?

ইডি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের দ্বারভাঙ্গার দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ভাই আশুতোষ ঝা এবং বিপিন ঝা এই কেলেঙ্কারির মূল হোতা। অভিযোগ, এই দুই ভাই সীমা হায়দার ও সচিনের ছবি এবং নাম ব্যবহার করে একটি জাল আইডি তৈরি করেছিলেন। এই জাল আইডি-র মাধ্যমে তারা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের প্রায় ৯৯.২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

কেমন ছিল জালিয়াতির কৌশল?

ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, দেশজুড়ে বহু শেল কোম্পানি তৈরি করা হয়েছিল। এসব কোম্পানির নামে কোনো ব্যবসা না থাকা সত্ত্বেও জাল বিল তৈরি করে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার ট্যাক্স ক্রেডিট নেওয়া হয়েছিল, যা সরাসরি সরকারের ক্ষতি করেছে। ইডি সন্দেহ করছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাওয়ালা এবং অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশ পুলিশ তাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ITC কেলেঙ্কারির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে, ইডি এই কেলেঙ্কারির পুরো ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে দিল্লি, হরিয়াণা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং অরুণাচল প্রদেশে বড় আকারের তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি কেবল কর ফাঁকি দেওয়ার একটি কেস নয়, বরং এটি দেখায় কীভাবে অপরাধীরা সাধারণ মানুষের নাম এবং পরিচয় ব্যবহার করে দেশজুড়ে জালিয়াতির এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।