বৌদিকে খুনের কথা স্বীকার দেওরের! পরকীয়া, টাকাপয়সা না অন্য কারণ? রহস্য ফাঁস করল পুলিশ

গোবরডাঙায় বৌদি মিঠু দত্তকে খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন তাঁর দেওর প্রদীপ দত্ত। পুলিশি জেরায় প্রদীপ খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডে শুধু দেওর নয়, মৃতার দুই ছেলেরও কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বুধবার ধৃত প্রদীপ দত্তকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রদীপ তার স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে মুম্বাই থেকে গোবরডাঙায় চলে আসেন এবং বৌদি মিঠুর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে শুরু করেন। মুম্বাইয়ে হিরে পালিশ করে যে টাকা জমিয়েছিলেন, তা দিয়ে বৌদিকে একটি পাকা বাড়িও তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রদীপ চরম আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন। এই কারণে মিঠুর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝামেলা হতো। প্রদীপ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন এবং তার সন্দেহ হয় যে মিঠু তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারেন। পুলিশকে প্রদীপ জানিয়েছেন, সম্প্রতি মিঠু তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।

রবিবার রাতে প্রদীপ ও মিঠুর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এরপর সোমবার থেকে মিঠুর কোনো খোঁজ ছিল না। মঙ্গলবার সকালে ঘরের খাটের নিচ থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রদীপ প্রথমে মিঠুকে শ্বাসরোধ করে খুন করে, তারপর তার মুখ থেঁতলে দেয়।

বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া জানিয়েছেন, “ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক অশান্তি এবং কথা কাটাকাটির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।”

তবে এই হত্যাকাণ্ডে মিঠুর দুই ছেলের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখছে এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মৃতার স্বামী দিলীপ দত্ত ১১ বছর আগে মুম্বাইয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপরই প্রদীপ বৌদির সঙ্গে থাকতে শুরু করেন এবং তাদের সংসার ও দুই ছেলের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়া, আর্থিক অনটন নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা সম্পূর্ণ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।