নিয়োগ দুর্নীতির বলি যোগ্যরা, বাধ্য হয়ে ফের পরীক্ষা দিচ্ছেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা

দীর্ঘ আইনি জটিলতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং লাগাতার আন্দোলনের পর অবশেষে বাতিল হওয়া ২৬ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য ফের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই পরীক্ষা। কিন্তু যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা খুশি নন। তাঁদের মতে, যোগ্যতা প্রমাণ করেও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁরা আবারও এই পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন হুমায়ুন ফিরোজ, যিনি এমবিএস নেওরা হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেন, “এটা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। এখানে সরকারের দুর্নীতি এবং বিচার ব্যবস্থার অবহেলা হয়েছে। আমরা কেউ চাইনি যে আবার পরীক্ষা দিই। ৯ বছর আগে আমাদের পরীক্ষা হয়ে গেছে। আগের যে মানসিক দৃঢ়তা ছিল, এখন তো তা নেই। মানসিক যন্ত্রণার পরও আমরা পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এসএসসি এমন একটা চাকরি, যা বহু প্রান্তিক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে পেয়েছিলেন। যাঁরা যোগ্যভাবে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছে আজকের দিনটি সত্যিই কষ্টের।”
পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষা কেন্দ্র:
স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে, নবম ও দশম শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই পরীক্ষায় মোট ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। রাজ্য জুড়ে ৬৩৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। যদিও অনেক পরীক্ষার্থীই এই পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়েছিলেন, কারণ তাঁদের অনেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। হুমায়ুন ফিরোজও বলেন, “স্কুল চলছে, পরীক্ষার খাতা দেখছি। তাই চেয়েছিলাম পরীক্ষাটা পিছিয়ে যাক।”
দীর্ঘ এই লড়াইয়ে যারা শেষ পর্যন্ত টিকে রয়েছেন, তাঁদের একটাই কথা— যোগ্যতা প্রমাণ করা সত্ত্বেও তাঁরা আজ দুর্নীতির শিকার। এই পরীক্ষার ফলাফলই বলে দেবে, তাঁদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে কি না।