দেশের ৪৭% মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ, তালিকায় রয়েছে তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস

সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এনেছে নির্বাচনী অধিকার সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’ (এডিআর)। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রায় ৪৭ শতাংশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খুন, অপহরণ এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
এই রিপোর্টে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মন্ত্রীদের অপরাধমূলক মামলার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, প্রায় অর্ধেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এই তথ্য এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন সরকার গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের পদচ্যুত করার জন্য একটি বিল পেশ করেছে।
কে কোন দলের কত মন্ত্রীর নামে মামলা?
এডিআর-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৬৪৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৩০২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে আবার ১৭৪ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে।
তেলুগু দেশম পার্টি (TDP): অপরাধের মামলার তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এই দলটি। তাদের ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে।
কংগ্রেস: এই দলের ৪৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
বিজেপি: ৩৩৬ জন বিজেপি মন্ত্রীর মধ্যে ৪০ শতাংশের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): ৪০ জন তৃণমূল মন্ত্রীর মধ্যে ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে।
আম আদমি পার্টি (AAP): ১৬ জন আপ মন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ৬৯ শতাংশের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
এছাড়াও, ডিএমকে-র প্রায় ৮৭ শতাংশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
ধন-সম্পদের দিক থেকে কে এগিয়ে?
এডিআর রিপোর্টে মন্ত্রীদের আর্থিক অবস্থার একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।
দেশে মন্ত্রীদের গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৭.২১ কোটি টাকা।
৬৪৩ জন মন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩,৯২৯ কোটি টাকা।
দেশের সবচেয়ে ধনী মন্ত্রী হলেন টিডিপি-র চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি, যার সম্পত্তির পরিমাণ ৫৭০৫ কোটি টাকারও বেশি।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কর্ণাটকের কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমার, যার সম্পদের পরিমাণ ১৪১৩ কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে, কয়েকজন মন্ত্রীর আর্থিক অবস্থা খুবই সাধারণ। ত্রিপুরার আদিবাসী পিপলস ফ্রন্টের শুক্লচরণ নোয়াটিয়ার মাত্র ২ লক্ষ টাকা এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার প্রায় ৩ লক্ষ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এই রিপোর্ট দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি জনপ্রতিনিধিদের সততা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।