খাদ্যশস্য পাঠানো থেকে বাঁধ তৈরি করা, সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া, ভারত আফগানিস্তানকে কতটা সাহায্য করেছিল?

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ধ্বংসযজ্ঞের পর, ভারত দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের পর তালেবান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। ভারত ইতিমধ্যেই কাবুলে ১০০০টি তাঁবু, ১৫ টন খাদ্য এবং ওষুধসহ মোট ২১ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। ভারত আরও মানবিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।
ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বহু পুরোনো। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর পরই আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে। ১৯৫০ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি বন্ধুত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এমনকি, ১৯৭৩ সালে আফগানিস্তান যখন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান আক্রমণ করার পর এবং পরবর্তী দুই দশকে ভারত মানবিক কারণে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেয় এবং আফগান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়।
তালেবানের সময়কালে ভারতের ভূমিকা
১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবুও ভারত মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখে। ২০০১ সালে তালেবানদের পতনের পর ভারত আবার আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সহায়তা শুরু করে। ২০০২ সালের মার্চ মাসে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস সম্প্রসারিত করা হয় এবং হেরাত, মাজার-ই-শরিফ, কান্দাহার এবং জালালাবাদে কনস্যুলেট খোলা হয়। ২০১১ সালের খরায় ভারত আফগানিস্তানকে ২.৫ লক্ষ টন গম সরবরাহ করে।
পুনর্গঠনে ভারতের অবদান
ভারত আফগানিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে:
সংসদ ভবন: ভারতের সহায়তায় কাবুলে আফগানিস্তানের সংসদ ভবন নির্মিত হয়, যার একটি ব্লকের নামকরণ করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামে।
সালমা বাঁধ: প্রায় ২০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতের সহায়তায় হেরাতে সালমা বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়, যা ভারত-আফগানিস্তান মৈত্রী বাঁধ নামেও পরিচিত।
অন্যান্য প্রকল্প: ভারত কাবুল থেকে ফুল-ই-খুমরি পর্যন্ত ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করেছে, এবং হাবিবিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও অন্যান্য হাসপাতাল সংস্কারে সহায়তা করেছে।
নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা
ভারত আফগান সেনাবাহিনীকে সামরিক যানবাহন এবং বিমান বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার সরবরাহ করেছে। সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় ভারতের সামরিক একাডেমিতে।
২০১৯ সাল পর্যন্ত ভারত আফগানিস্তানে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং মোট ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই বিনিয়োগ মূলত খনিজ সম্পদ, যোগাযোগ, কৃষি এবং তথ্য প্রযুক্তির মতো খাতে করা হয়েছিল।
২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতায় এলে ভারত তার কূটনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে, কিন্তু মানবিক কারণে সাহায্য অব্যাহত রেখেছে। করোনা মহামারীর সময় ভারত টিকা ও ওষুধ সরবরাহ করেছে এবং ২০২২-২৩ সালে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম দিয়েছে।