TikTok কী ভারতে ফিরছে? চাকরির বিজ্ঞাপন ও ওয়েবসাইট লোড হওয়ায় বিজ্ঞাপন তুঙ্গে!

ভারতের অ্যাপ স্টোর থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটক (TikTok)-এর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই জল্পনার সূত্রপাত হয় যখন টিকটকের মূল সংস্থা বাইটড্যান্স (ByteDance) ভারতে নতুন করে কর্মচারী নিয়োগের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়। এরপরই কিছু সময়ের জন্য টিকটকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লোড হতে শুরু করলে এই জল্পনা আরও তীব্র হয়।
কেন এই জল্পনা?
চাকরির বিজ্ঞাপন: বাইটড্যান্স লিঙ্কডইন-এ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়, যার মধ্যে বাংলাভাষী কন্টেন্ট মডারেটরের মতো পদও ছিল। নিষিদ্ধ একটি প্ল্যাটফর্ম কেন ভারতে কর্মী নিয়োগ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস: কয়েকজন ব্যবহারকারী হঠাৎ করেই টিকটকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করতে পারেন এবং এর স্ক্রিনশট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। গুগল প্লে এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে অ্যাপটি না থাকলেও ওয়েবসাইট লোড হওয়ার ঘটনাকে অনেকেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম লক্ষণ হিসেবে ধরে নেন।
সরকারের কঠোর অবস্থান
এই জল্পনার মধ্যেই ভারত সরকার সমস্ত আলোচনাকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর আছে এবং তা তুলে নেওয়ার জন্য কোনো আদেশ জারি করা হয়নি। কর্মকর্তারা জনসাধারণকে সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি ভারতীয় ডিজিটাল জগতে ফিরে আসতে পারবে না।
কেন এই মিশ্র সংকেত?
শিল্প বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মতে, বাইটড্যান্স ভারতে তাদের কিছু কার্যক্রম হয়তো চালু রেখেছে, যেমন:
ভারতের বাইরে প্রচারিত বাংলা বা হিন্দি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ।
দক্ষিণ এশিয়ার বাজার নিয়ে গবেষণা।
ভবিষ্যতের পণ্যের জন্য ব্যাকএন্ড কাজ পরিচালনা করা।
ওয়েবসাইট লোড হওয়া সম্ভবত কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, যা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি।
কেন টিকটকের ফিরে আসা নিয়ে এত উত্তেজনা?
২০২০ সালের জুন মাসে জাতীয় নিরাপত্তা এবং ডেটা গোপনীয়তার কারণে যখন ভারত টিকটক-সহ কয়েক ডজন চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে, তখন ভারত ছিল টিকটকের বৃহত্তম বাজার, যেখানে ২০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা হাজার হাজার নির্মাতার কর্মজীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছিল।
যদিও ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং ইউটিউব শর্টসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সেই শূন্যস্থান কিছুটা পূরণ করেছে, কিন্তু টিকটকের মতো জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব কোনো প্ল্যাটফর্মই অর্জন করতে পারেনি। আর তাই, সামান্য একটি ঝলকও লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর মধ্যে টিকটকের প্রত্যাবর্তনের আশা জাগিয়ে তুলেছে।