মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কি সম্পর্কের বরফ গলছে, বাণিজ্য চুক্তির আশায় ভারত,

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিলেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। যদিও শুল্ক বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এখনো স্পষ্ট, তবুও গোয়েল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু হয়েছে, আরও অনেক কিছু হওয়া বাকি। আমেরিকার সঙ্গে আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি।’

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির নরম সুর
গোয়েলের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ভারতের প্রতি তুলনামূলক নরম মনোভাব দেখিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাদের মূল্যবোধ আমাদের এবং চীনের কাছাকাছি, রাশিয়ার নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভারত-আমেরিকা সমস্যার সমাধান করবে।’ তবে তিনি একই সঙ্গে অভিযোগ করেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে।

ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টার ভিন্নমত
অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতকে আমাদের, ইউরোপ এবং ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে হবে, রাশিয়ার নয়।’

শুল্ক চাপ এবং স্থগিত সফর
এই চাপান-উতোরের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৭ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যাকে ভারত ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়েছে। এর পরপরই আমেরিকা তাদের ভারত সফর স্থগিত করে। ২৫ আগস্ট ষষ্ঠ দফা বাণিজ্য আলোচনার কথা থাকলেও, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও পীযূষ গোয়েলের বক্তব্যে স্পষ্ট যে ভারত আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারে কিনা।