‘রূপশ্রী’ প্রকল্প! রাজ্যজুড়ে ৪৮০০ পাত্রীকে টাকা দেবেন মমতা, বরাদ্দ প্রায় ১২ কোটি

উৎসবের এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫ হাজার তরুণী বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। রাজ্য সরকার ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৮০০ কনেকে সাহায্য করার জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের একটি প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকজন পাত্রীর হাতে সরাসরি কিছু জিনিসপত্র তুলে দেন এবং তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন।

সম্প্রতি রূপশ্রী প্রকল্পে কিছু দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছিল, যেখানে গৃহবধূদের নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর থেকে প্রশাসন আরও কড়া হয়েছে। এখন সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে যাচাই করে দেখছেন যে তার বিয়ে সত্যিই হচ্ছে কিনা। নিশ্চিত হওয়ার পরেই তবে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে।

রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেছেন, আগে বাবা-মায়েরা মেয়ের বিয়ের জন্য ধারদেনা করতেন বা সম্পত্তি বিক্রি করতেন। এখন সেই দুশ্চিন্তা নেই। রূপশ্রী প্রকল্পের এই ২৫ হাজার টাকা এবং কন্যাশ্রী কে-২ প্রকল্পের আরও ২৫ হাজার টাকা মিলিয়ে আর্থিক সংকট অনেকটাই কমে গেছে। তাই অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন।

প্রশাসন আরও জানিয়েছে যে, এই প্রকল্পের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ। যেহেতু ১৮ বছরের আগে এই প্রকল্পে টাকা পাওয়া যায় না, তাই অনেক পরিবারই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে না। যদিও কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করছে, তবুও প্রশাসন এই ধরনের ঘটনা রুখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে।