বিশেষ: হিটলারের মৃত্যুর পর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কার হাতে? জেনেনিন বিস্তারিত

হিটলারের নাম শুনলেই আমাদের মনে আসে এক নিষ্ঠুর, একনায়ক নেতার কথা। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল এবং কীভাবে তিনি এত ধনী হলেন, তা অনেকেই জানেন না। সম্প্রতি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া কিছু নথিপত্র এবং গবেষণায় তার বিশাল সম্পত্তির নানা তথ্য সামনে এসেছে। এই নথিপত্রগুলো ছিল হিটলারের রাজনৈতিক উইল এবং তার ব্যক্তিগত সচিবের দেওয়া কিছু কাগজ।

এক অদ্ভুত মিশন

১৯৪৫ সালে অ্যাডলফ হিটলারের মৃত্যুর পর, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা জার্মান ইহুদি হেরম্যান রথম্যান এবং তার চারজন সহকর্মীকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই পাঁচজন ইহুদিকে সেই ব্যক্তির নথিপত্র অনুবাদ করতে বলা হয়েছিল, যিনি ইহুদিদের নির্মূল করতে চেয়েছিলেন। হিটলারের রাজনৈতিক উইল এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র অনুবাদ করার সেই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ছিল এক অদ্ভুত ও আবেগপূর্ণ মুহূর্ত।

নথিপত্রে হিটলার তার রাজনৈতিক লক্ষ্য, ইহুদিদের প্রতি তার ঘৃণা এবং ভবিষ্যতে সরকার কেমন হবে, তার রূপরেখা লিখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তার কোনো সম্পদ নেই এবং যা কিছু আছে, তা সবই দলের বা সরকারের। তিনি লিখেছিলেন, তার সব সম্পদ দল বা সরকারের কাছে চলে যাবে। কিন্তু পরে দেখা যায়, এই কথাটি মিথ্যা ছিল।

বই লিখে কোটিপতি হিটলার

হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে খুবই গরীব ছিলেন। কিন্তু তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় তার লেখা বই ‘মাইন কাম্ফ’ (Mein Kampf)। বইটি প্রথম দিকে তেমন বিক্রি না হলেও, হিটলারের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর বিক্রিও আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। ১৯৩০ সালে বইটি জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়ে ওঠে। একসময় এটি স্কুলের পাঠ্যবই এবং বিয়ের উপহার হিসেবেও দেওয়া হতো। ১৯৩৩ সালে এক বছরেই বইটির প্রায় ১০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। মিউনিখ আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই বই থেকেই হিটলার ১.২৩২ মিলিয়ন মার্ক আয় করেছিলেন।

লুকানো সম্পদ ও কর ফাঁকি

হিটলারের সম্পদ হিসাব করা বেশ কঠিন ছিল, কারণ তিনি বেশিরভাগ সম্পদ গোপন রেখেছিলেন। গবেষকদের মতে, মৃত্যুর সময় তিনি ইউরোপের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। ২০০৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩৫ বিলিয়ন ইউরো।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এত টাকা আয় করলেও হিটলার কখনো কর দেননি। যখন জার্মানির চ্যান্সেলর হওয়ার পর তাকে করের বিল পাঠানো হয়েছিল, তখন অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে তিনি কোনো কর দেবেন না।

হিটলারের মৃত্যুর পর মিত্রশক্তি তার সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তার সম্পদ দল বা সরকারের কাছে যেতে পারত না, কারণ সেই নাৎসি রাষ্ট্র আর টিকে ছিল না। তাই তার সম্পত্তি ব্যাভারিয়া রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং তার অ্যাপার্টমেন্টটি থানায় রূপান্তরিত হয়েছিল। এমনকি, তার বইয়ের কপিরাইটও বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।