‘দীর্ঘদিন স্বামীকে সঙ্গম না করতে দেওয়া এক প্রকার মানসিক নির্যাতন’, গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল হাইকোর্ট!

কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে স্বামীকে সহবাসে বাধা দেওয়া মানসিক নির্যাতনের সমান, এমনটাই জানাল ওড়িশা হাইকোর্ট। একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে। এই রায়ের ফলে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
মামলাটি শুরু হয়েছিল যখন এক স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার স্ত্রী কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করছেন। যদিও নিম্ন আদালত তার আবেদন বাতিল করে দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে স্বামী ওড়িশা হাইকোর্টে আবেদন করেন।
বিচারপতি অরিন্দম সিনহা ও বিচারপতি সিব শঙ্কর মিশ্রের বেঞ্চ এই মামলাটি শোনেন। আদালত বলেন, “যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে শারীরিক অক্ষমতা বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে অস্বীকৃতি জানানো মানসিক নির্যাতন হিসাবে ধরা হবে।”
আদালত আরও দেখতে পায় যে, স্বামী বারবার অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা করলেও তার স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্ত্রী নিজেও আদালতে স্বীকার করেছেন যে তাদের বিবাহ সম্পূর্ণরূপে অনিষ্পন্ন (non-consummated)। এর কোনো বৈধ কারণ তিনি দেখাতে পারেননি। এই কারণে আদালত মনে করে যে, স্ত্রীর একতরফা এই আচরণ স্বামীর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রায় ভবিষ্যতে বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলাগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে, দাম্পত্য জীবনে সহবাসের মতো ব্যক্তিগত দিকটিকে যদি কোনো বৈধ কারণ ছাড়া একতরফাভাবে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তা মানসিক নির্যাতন বলে বিবেচিত হতে পারে। এই রায় বিবাহিত জীবনের শারীরিক এবং মানসিক দিকগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে।