“৬ মাসে বাতিল ৫৭০৬ ফ্লাইট”-বিমান পরিষেবায় ধেয়ে আসছে একের পর এক সমস্যা

চলতি বছরে একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণে ভারতের বিমান পরিষেবা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গত ছয় মাসে ৫৭০৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। সোমবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিসংখ্যান দিয়েছেন দেশের বিমান প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের প্রধান তিনটি কারণ হলো:
প্রথমত, এপ্রিলের ২২ তারিখ কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই নিষেধাজ্ঞা এখনও চলছে, যার ফলে দিল্লি থেকে পশ্চিমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ এবং সময় লাগছে।
দ্বিতীয়ত, ৬ মে রাতে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হয়, যার ফলে চার দিনের জন্য পশ্চিমের আকাশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কারণে ইরানের আকাশসীমাও বন্ধ থাকায় বিমান পরিষেবা আরও বিঘ্নিত হয়।
তৃতীয়ত, ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনে যাওয়ার সময় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ড্রিমলাইনার ভেঙে পড়ার পর ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) প্রতিটি ভারতীয় বিমানের খুঁটিনাটি পরীক্ষা শুরু করে। এর ফলে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটির জন্যও ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে, যা আগে তেমন গুরুত্ব পেত না।
বিমান প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল জানান, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এই বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা বিশাল হলেও, এটি মোট ফ্লাইটের মাত্র এক শতাংশ। তিনি আরও বলেন, এই সব কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি, রি-ফুয়েলিং, পাইলট ও কেবিন ক্রুদের ওভারটাইম এবং যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ফলে এয়ারলাইনসগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।
তবে, এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারি-জুনে যাত্রী পরিবহণের পরিমাণ ৭.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, যাত্রী চাহিদা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো বিমান শিল্পকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলছে।