মোদী সরকারের বড় পদক্ষেপ! ৬২,০০০ কোটি টাকায় ৯৭টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি ভারতের

ভারতের সামরিক শক্তি বাড়াতে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল)-এর সঙ্গে ৬২,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ৯৭টি এলসিএ (লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট) মার্ক ১এ যুদ্ধবিমান কেনা হবে। এই বিমানগুলো ভারতীয় বিমানবাহিনীর পুরনো মিগ-২১ ফ্লিট-কে প্রতিস্থাপন করবে।

চুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য
এই ৯৭টি এলসিএ মার্ক ১এ বিমান কেনার চুক্তিটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথম অনুমোদিত হয়েছিল, এবং এখন তা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে, ২০২১ সালে ৮৩টি বিমানের জন্য ৪৮,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই নতুন চুক্তিটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

এই বিমানগুলোতে ৬৫% এর বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এইচএএল-এর নাশিক কারখানায় ইতিমধ্যেই এই বিমানগুলোর উৎপাদন শুরু হয়েছে। এটি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগগুলোর জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

সামরিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রায় ৫০ বছর পুরনো মিগ-২১ বিমান বহরকে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছিল, যা বারবার দুর্ঘটনার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এলসিএ তেজাস মার্ক ১এ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য কৌশলগত সুবিধা নিয়ে আসবে।

তবে, এর কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এই বিমানের ইঞ্জিনের জন্য ভারত এখনও আমেরিকার উপর নির্ভরশীল। তেজাস বিমানে ব্যবহৃত জিই এফ৪০৪ ইঞ্জিনের সরবরাহে বিলম্ব হলে উৎপাদনও প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়া, দেশীয় কাভেরি ইঞ্জিন-এর উন্নয়ন এখনও ধীর গতিতে চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এইচএএল তার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে না পারে, তাহলে বিমান সরবরাহে বিলম্ব হতে পারে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের প্রতিফলন
এই চুক্তিটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৬৫% দেশীয় উপাদানের ব্যবহার ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে, স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইপিআরআই)-এর ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত এখনও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। এই চুক্তি সেই পরিস্থিতি বদলাতে সাহায্য করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ৬২,০০০ কোটি টাকার এই চুক্তি ভারতের সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর সফলতা নির্ভর করবে এইচএএল-এর উৎপাদন দক্ষতা, ইঞ্জিন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর।