“মাঠে ঢুকে রেফারিকে লাথি!”- অভিযোগ TMC নেতার ভাইপোর বিরুদ্ধে, তোপ দাগলেন শুভেন্দু

একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন রেফারিকে লাথি মারার অভিযোগে মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খাঁর ভাইপো রাজা খাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ শনিবার দুপুরে তাকে আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
শুক্রবার রাতে মেদিনীপুর শহরের চার্চ স্কুলের মাঠে দিবা-রাত্রির ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। খেলায় রেফারির দায়িত্বে ছিলেন লক্ষ্মণ মাণ্ডি। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, রাজা খাঁ হঠাৎ মাঠে ঢুকে রেফারির সঙ্গে তর্ক করছেন এবং এরপর তার পেটে লাথি মারেন।
জানা গেছে, রাজা খাঁর দল ‘অস্মিত রিজেন্সি’র সঙ্গে ‘যুব সঙ্ঘ’ দলের খেলা চলছিল। যুব সঙ্ঘ একটি গোল করলে রাজা খাঁ দাবি করেন যে গোলটি নিয়ম বহির্ভূত ছিল এবং তা নিয়েই বচসার সূত্রপাত হয়। রাজা খাঁ এই টুর্নামেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং তার বাবা হিমাদ্রি খাঁ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি। যদিও রাজা নিজে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।
আক্রান্ত রেফারি লক্ষ্মণ মাণ্ডি বলেন, “আমি আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন মানুষ। রেফারি হিসেবে বিভিন্ন জেলায় খেলা পরিচালনা করেছি, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আগে কখনো হইনি।” তিনি এই ঘটনাটি রেফারি সংগঠনকে জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। মেদিনীপুর রেফারি অ্যাসোসিয়েশনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীর কঠোর শাস্তির দাবি করেছে।
ফুটবল মাঠে ফুটবলের বদলে রেফারি কে লাথি !!!
পুলিশ প্রশাসনের প্রশ্রয়ে হৃষ্টপুষ্ট বলিষ্ঠ তৃণমূলী সমাজবিরোধী গুণ্ডাদের কীর্তি দেখুন। খেলার মাঠের বিতর্কে রেফারি কে সর্বসমক্ষে লাথি মারছে মেদিনীপুর পৌরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান সৌমেন খানের ভাইপো রাজা খান।
যাকে মারছে তিনি হলেন শ্রী… pic.twitter.com/9DZunShyBh
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) August 16, 2025
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলের কড়া সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, “মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খাঁ তার ভাইপোর পক্ষ নিয়ে বলেন, “যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা ঠিক হয়নি। আমার ভাইপো ক্ষমা চেয়ে নেবে।” তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন এবং বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়ানোর চেষ্টা প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির অংশ।”