৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়..! চা বাগানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিরাট ব্যবস্থা রাজ্যের, জানলে খুশি হবেন

কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগ্রহণ করা চা বাগানগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুল যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রায় ৩ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস কিনে এই শিশুদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় চা বাগানগুলোর শ্রমিকদের সন্তানদের স্কুলে যেতে হয় ট্রাক্টর বা চা পাতা তোলার গাড়িতে করে। এই বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন উঠলে কেন্দ্র জানায়, অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া পর্যন্ত জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে বাস কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আলিপুরদুয়ার জেলার ৫টি এবং জলপাইগুড়ি জেলার ৬টি চা বাগানের জন্য রুটের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই রুটগুলো হলো:
আলিপুরদুয়ার: লঙ্কাপাড়া থেকে বীরপাড়া, টোটোপাড়া থেকে মাদারিহাট, ডেকপাপাড়া থেকে বীরপাড়া, সেন্ট্রাল ডুয়ার্স থেকে কালচিনি এবং মুজনাই চা বাগান থেকে এথেলবাড়ি।
জলপাইগুড়ি: পাথরঝোরা চা বাগান থেকে ওদলাবাড়ি মোড়, ইঙ্গু চা বাগান থেকে মেটেলি, বামনডাঙ্গা চা বাগান থেকে চেংমারি টি এস্টেট হাই স্কুল, হিল্লা টি এস্টেট থেকে চেংমারি টি এস্টেট হাই স্কুল, যোগেশচন্দ্র চা বাগান থেকে রাজডাঙ্গা পিএম হাইস্কুল এবং মোগলকাটা চা বাগান থেকে বানারহাট হাইস্কুল।
রাজ্যের শাসকদলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, “সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছে তারা শ্রমিকদের পিএফ জমা করতে পারেনি। অথচ তাদেরই এই শিশুদের জন্য বাস দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বাসের ব্যবস্থা করে দিলেন।”
এর জবাবে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগগা বলেছেন, “নির্বাচন এলেই এই ধরনের কথা মনে পড়ে তৃণমূলের।”