আফগানিস্তানে চার বছর পর তালেবান শাসন, স্থিতিশীলতা ও সংকট

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের চার বছর পূর্তিতে তাদের শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করছে, অন্যদিকে নারী অধিকার ও মানবিক সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

রাশিয়ার স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:
গত জুলাই মাসে রাশিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্যারিসের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষক সরদার রহিমী বলেন, রাশিয়া এখন আফগানিস্তানে সেই ভূমিকা পালন করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র চার বছর আগে ছেড়ে গিয়েছিল। চীনও তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী তালেবান রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন, যা তাদের সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে।

মানবিক সংকট এবং নারী অধিকার:
তালেবান শাসনে নারী অধিকারের চরম অবনতি ঘটেছে। ১২ বছরের বেশি বয়সের প্রায় ১৪ লাখ মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না, এবং তরুণীদের উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাবেক আফগান কূটনীতিক শুকরিয়া বরকজাই বলেন, তালেবানরা তাদের শাসনকে বৈধতা দিতে নারীদের ওপর নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। ইইউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্যমতে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন আফগান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে, যার ফলে ৩০ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রত্যাবাসন ও নির্বাসন:
জার্মানি সম্প্রতি আফগানিস্তানে দুটি ফ্লাইটে ১০৯ জন আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে ইউরোপ থেকে প্রত্যাবাসনের সংখ্যা ইরান ও পাকিস্তান থেকে ব্যাপক বিতাড়নের তুলনায় নগণ্য। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর অনুযায়ী, এই দুই দেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ২১ লাখের বেশি আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই মিশ্র পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।