চাকরিহারা শিক্ষকের মৃত্যুতে উত্তেজনা, পুলিশের বিরুদ্ধে দেহ হাইজ্যাকের অভিযোগ

চাকরিহারা শিক্ষক সুবল সোরেনের মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মুকুন্দপুরের এক হাসপাতালে তার মৃত্যুর পর, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা পুলিশের বিরুদ্ধে তার দেহ ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ:
সুবল সোরেনের মৃত্যুর পর চাকরিহারা শিক্ষকরা হাসপাতাল থেকে রুবি মোড় পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। তাদের দাবি, পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অনুমতি ছাড়াই সুবলের দেহ একটি অন্য গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। একজন আন্দোলনকারী বলেন, “পরিবারের লোককে না জানিয়ে পুলিশ দেহ হাইজ্যাক করে অন্য গাড়িতে চাপিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। যোগ্য শিক্ষকরা গিয়ে আটকাতে পেরেছেন। আমরা যদি আগলে নিয়ে না যাই, তাহলে আমরা আদৌ জানি না ওনার দেহ পরিবারের কাছে পৌঁছবে কিনা।” সুবলের সহযোদ্ধারা কালো কাপড় মাথায় বেঁধে ই এম বাইপাসে মানববন্ধন করে মিছিল করেন।

পুলিশের বক্তব্য:
পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বচসা হয়। পুলিশ দাবি করে যে তারা মিছিল করতে পারে, তবে রাস্তা আটকে নয়। রাস্তার একপাশ দিয়ে গাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডিসি ইস্ট-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে পুলিশ দেহ হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেনি।

মৃত্যুর কারণ:
আন্দোলনকারীদের মতে, চাকরি হারানোর পর থেকেই সুবল সোরেন মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং অনিয়মিতভাবে ওষুধ খেতেন। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন যে প্রবল রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা এর শেষ দেখে ছাড়বেন এবং সুবলের মৃত্যুর বিচার দাবি করবেন।