‘প্রথমবার চাকরিতে ঢুকলেই মিলবে মোটা টাকা…!’ স্বাধীনতা দিবসে মোদীর বড় ঘোষণা

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ এবং জিএসটি সংস্কারের ঘোষণা।
‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’
বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী এই নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যেসব যুবক-যুবতী বেসরকারি সংস্থায় তাদের প্রথম চাকরি শুরু করবেন, সরকার তাদের ১৫ হাজার টাকা দেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি যুবক-যুবতী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রকল্পটি ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্ষমতায়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” এই প্রকল্পটি আজ, ১৫ আগস্ট থেকেই কার্যকর হচ্ছে এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনভুক্ত কর্মীরা এই সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে, নতুন কর্মীদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও সরকার সহায়তা দেবে।
জিএসটি সংস্কার: দিওয়ালিতে ‘ডবল উপহার’
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই দিওয়ালি হবে দেশবাসীর জন্য ‘ডবল দিওয়ালি’। তিনি জিএসটি সংস্কারের ঘোষণা করে বলেন, “গত আট বছরে আমরা জিএসটির বড় সংস্কার করেছি। এবার সময়ের দাবি মেনে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জিএসটি সংস্কার আনা হবে।” তিনি জানান, একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি দিয়ে এটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এই সংস্কারের ফলে করের হার অনেকটাই কমে যাবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পাকিস্তানকে কড়া বার্তা
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করেন। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল ভারতীয়দের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা এতটাই ব্যাপক যে প্রতিদিন নতুন তথ্য সামনে আসছে। তিনি বলেন, ২২শে এপ্রিলের হামলার পর সেনাবাহিনীকে প্রত্যাঘাতের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ একদিকে যেমন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থানের উপর গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনই দেশের প্রতিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার কঠোর অবস্থানকেও তুলে ধরেছে।