‘ভারতে তৈরি যুদ্ধবিমানের জন্য মেড ইন ইন্ডিয়া ইঞ্জিন হওয়া উচিত’ : মোদী

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আত্মনির্ভরতার বার্তা আরও জোরদার করলেন। শুধু সেমিকন্ডাক্টর বা অন্যান্য পণ্য নয়, এবার ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও সেই একই বার্তা দিলেন তিনি। ভারতে তৈরি যুদ্ধবিমানগুলির বিদেশি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরতার কারণে সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর আজকের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ লালকেল্লা থেকে বলেন, “ভারতের নিজস্ব ফাইটার জেটগুলিতে ভারতীয় জেট ইঞ্জিন হওয়া প্রয়োজন।” এর আগে ডিআরডিও (DRDO) দেশীয়ভাবে তৈরি কাবেরী জেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়ায়। এই ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ইঞ্জিনটি দীর্ঘ পাল্লার মনুষ্যবিহীন আকাশযান (Unmanned Aerial Vehicle) চালানোর জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনও দেশেই তৈরির ওপর জোর দিলেন।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, ভারতকে তেজস যুদ্ধবিমানের জন্য জিই-৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহ করতে শুরু করেছে মার্কিন সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক (General Electric)। তেজস মার্ক ১-এর জন্য জেনারেল ইলেকট্রিকের কাছ থেকে হ্যাল (HAL)-এর ৯৯টি ইঞ্জিন পাওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, এই ইঞ্জিনগুলি ২ বছর আগেই পাওয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে বিলম্বের পর অবশেষে সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই বছর মোট ১২টি ইঞ্জিন সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এরপর প্রতি বছর ২০টি করে ইঞ্জিন সরবরাহ করতে পারে জিই। এই ইঞ্জিনগুলির জন্য হ্যাল ২০২১ সালে জিই-র সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল।

তবে, তেজস যুদ্ধবিমানের সরবরাহ নিয়ে সম্প্রতি বায়ুসেনা প্রধান অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং জানিয়েছিলেন যে, বায়ুসেনার হাতে সময়মতো তেজস যুদ্ধবিমান তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকালসের (Hindustan Aeronautics Limited) ওপর তিনি পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। কারণ, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বায়ুসেনাকে ১৬টি তেজস যুদ্ধবিমান সরবরাহ করার কথা থাকলেও, মার্কিন সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিকের ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্বের কারণে হ্যাল সেই লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তেজস ভারতে তৈরি হলেও, এর ইঞ্জিন সরবরাহ করার দায়িত্ব জেনারেল ইলেকট্রিকের ওপর থাকায় এবং তাদের সময়মতো ইঞ্জিন সরবরাহ না করার কারণেই হ্যাল পূর্বনির্ধারিত সময়ে বায়ুসেনার হাতে যুদ্ধবিমান তুলে দিতে পারেনি।