‘কৃষকের স্বার্থে কোনও আপস নয়!’ স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি মোদীর

দেশের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের কৃষকদের স্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, খাদ্যসংকটের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তাঁরাই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, কৃষকদের স্বার্থে সরকার কোনো আপস করবে না। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি এক পরোক্ষ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষকদের স্বার্থে আপসহীন সরকার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর সবার জন্য খাদ্য সরবরাহ করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমাদের কৃষকরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় মোদী প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে, কোনো আপস করবে না। আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি সতর্ক করে দেন যে, অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীলতা বিপদের পথ এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় স্বনির্ভর হওয়া জরুরি।
বর্তমানে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত তার কৃষি ও দুগ্ধ বাজার খুলে দিতে রাজি নয়। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাই কূটনৈতিক মহলে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের প্রযুক্তি এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী বছরের শেষেই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সেমিকন্ডাক্টর চিপ বাজারে আসবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে সার উৎপাদন এবং যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরির আহ্বান জানান, যাতে বিশ্ববাজারে ভারতের প্রযুক্তি শক্তির প্রমাণ দেওয়া যায়।
জ্বালানি সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মোদী বলেন, “একটি সত্যিকারের আত্মনির্ভর ভারত গড়তে হলে জ্বালানি স্বাধীনতা অপরিহার্য।” তিনি জানান, গত ১১ বছরে দেশের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ গুণ বেড়েছে এবং বর্তমানে ১০টি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু হয়েছে। স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা দশগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ কৃষি, প্রযুক্তি, এবং জ্বালানি সুরক্ষায় আত্মনির্ভর ভারত গড়ার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।