কলকাতায় তৈরী হলো ভারতের বৃহত্তম মেট্রো স্টেশন’…! কেমন দেখতে হল? রইল ফাস্ট লুক

কলকাতা বিমানবন্দর এবার দেশের বৃহত্তম আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো স্টেশনের ঠিকানা হতে চলেছে। মাটির গভীরে তৈরি এই স্টেশন শুধু ভারতের নয়, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মেট্রো স্টেশন হিসেবেও পরিচিতি লাভ করবে। কলকাতা বিমানবন্দরের নিচে ১৪ মিটার গভীরে এই বিশাল স্টেশনটি তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে কলকাতার মেট্রো মানচিত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে।

স্টেশন নির্মাণ ও পরিকল্পনা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই মেট্রো প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো রুটের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং শীঘ্রই তা যাত্রী পরিষেবার জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এই স্টেশনটি তৈরি করার পাশাপাশি একটি সুবিশাল ইয়ার্ডও নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে পাঁচটি লাইন থাকবে এবং এর প্রস্থ হবে ৪৮ মিটার। স্টেশনটিতে থাকছে পাঁচটি প্ল্যাটফর্ম, যার প্রতিটি ১৮০ মিটার দীর্ঘ। তবে সম্পূর্ণ স্টেশন এলাকাটি ৩২০ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পুরো স্টেশন বিল্ডিংটি নির্মাণ করা হচ্ছে ৬৩৩ মিটার এলাকা জুড়ে।

যাত্রী সুবিধা এবং সংযোগ
বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনটি একটি জংশন স্টেশন হিসেবে কাজ করবে। এটি নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত মেট্রো রুটের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হবে, একই সঙ্গে গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো রুটের প্রান্তিক স্টেশন হিসেবেও কাজ করবে। যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মেট্রো স্টেশন, তাই এখানে প্রচুর যাত্রী সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য এই স্টেশনে আধুনিক সব ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ছয়টি সিঁড়ি, ছয়টি লিফট এবং ১২টি এসকেলেটর থাকছে। এছাড়া, দুটি সাবওয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা যশোর রোড এবং বিমানবন্দরকে মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

যশোর রোড সাবওয়ে: এই সাবওয়েটি ৩৩০ মিটার লম্বা এবং ১১ মিটার চওড়া। এতে তিনটি এসকেলেটর, দুটি লিফট এবং দুটি সিঁড়ি থাকবে।

বিমানবন্দর সংযোগকারী সাবওয়ে: এটি ২৭০ মিটার লম্বা এবং ১৩ মিটার চওড়া হবে। যাত্রীরা যাতে দ্রুত বিমানবন্দর থেকে স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য এখানে চারটি লিফট, ছয়টি এসকেলেটর এবং তিনটি সিঁড়ি থাকবে।

প্রকল্পের ইতিহাস
২০০৬ সালে বিমানবন্দর পর্যন্ত চক্ররেল পরিষেবা চালু হলেও যাত্রী স্বল্পতার কারণে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই লাইনকে মেট্রো লাইনে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপত্তির কারণে মাটির উপরে লাইন না করে মাটির নীচে স্টেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের শেষে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালে লকডাউনের কারণে তিন মাস কাজ বন্ধ ছিল। দীর্ঘ জটিলতা ও বাধা পেরিয়ে অবশেষে এই বিশাল প্রকল্পটি প্রায় সমাপ্তির পথে।