ভারতের আতঙ্কে এবার বড় পদক্ষেপ পাকিস্তানের, পাল্লা দিতে করতে হলো চীনের নকল?

গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যার রেশ এখনও কাটেনি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ১০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ক্ষত সারিয়ে উঠতে এবং সামরিক শক্তি বাড়াতে এবার নতুন একটি বাহিনী তৈরি করল পাকিস্তান।
বুধবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছেন, পাক সেনাবাহিনীতে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’ নামে একটি নতুন বাহিনী যুক্ত করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তিনি এই ঘোষণা করেন। শরিফ বলেন, “দেশের সামরিক শক্তির অগ্রগতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।” যদিও এই নতুন বাহিনীর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আশ্চর্যজনকভাবে, ভারতের কাছে পরাজয়ের কথা স্বীকার না করে শাহবাজ শরিফ দাবি করেন, গত মে মাসের সংঘর্ষে পাকিস্তানই নাকি সাফল্য পেয়েছে। সেই সাফল্যের স্মারক হিসেবেই এই নতুন বাহিনীর অবতারণা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই নতুন বাহিনী গঠনের পেছনে চীনের প্রভাব রয়েছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির চতুর্থ শাখার নামও ‘রকেট ফোর্স’। এই বাহিনী মূলত চীনের হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের অস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এমনকি চীনের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণও এই বাহিনীর হাতে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানও একই ধরনের দায়িত্ব দিয়ে এই নতুন বাহিনী গঠন করতে চলেছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন নয়। ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ও চীন পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছিল। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শাহবাজ শরিফ চীনকে ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে সম্বোধন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক, আজারবাইজান, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকেও ধন্যবাদ জানান।
নতুন বাহিনীর বিষয়ে শরিফ বলেন, উন্নত প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই বাহিনী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।